শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩
Homeরাজশাহী প্রতিদিনরাজশাহীতে বাস শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি

রাজশাহীতে বাস শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নিয়োগপত্র ও মজুরি বৃদ্ধি না করায় রাজশাহী থেকে ঢাকা চলাচলকারী দেশ ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের চালকরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে এই দুটি কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় ন্যাশনাল ও দুপুর দেশ ট্রাভেলস কোম্পানির শ্রমিকরা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে অন্যসব ঢাকাগামী বাস চালু আছে।

কর্মবিরতির হঠাৎ সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের দাবি- পূর্বের ঘোষণা থাকলে; যাত্রীরা তাদের বাসের টিকিট কিনতো না। এমন ভোগান্তিতেও পড়তে হতো না যাত্রীদের। অনেকেই টিকিটের টাকা ফেরৎ পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একজন চালক প্রতি টিপে পেয়ে থাকেন এক হাজার ৬০০ টাকা। সুপারভাইজার ৬০০ টাকা ও হেলপার পায় ৫৫০ টাকা। শুধু তাই না, এ পরিবহনের শ্রমিকরা পেয়ে থাকেন বোনাসও। একতা পরিবহনে ৩১ সিট পূর্ণ হলে শ্রমিকরা একটি যাত্রীর ভাড়া বোনাস পেয়ে থাকেন। ৪০ সিট পূর্ণ হলে পেয়ে থাকেন ২টি যাত্রীর ভাড়া। এছাড়াও যাত্রাপথে শ্রমিকদের খাবারের সুব্যবস্থাও করা হয় কোম্পানির পক্ষ থেকে।

একই জায়গা থেকে ন্যাশনাল ও দেশ ট্রাভেলস্রে চালকরা পেয়ে থাকেন এক হাজার ২০০ টাকা, সুপারভাইজার ৫০০ টাকা ও হেলপার পেয়ে থাকেন ৪৭৫ টাকা। একদিকে বেতন কম, অন্যদিকে কোনো সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হয় না শ্রমিকদের। এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেয়া দেয়।

মোটর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ করে ঢাকাগামী শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির কথা বলে আসছেন। শুধু তাই না, কোম্পানির সঙ্গে শ্রমিকরা সবচেয়ে যে বেশি সমস্যায় পড়েছেন তা হচ্ছে নিয়োগপত্র নিয়ে। নিয়োগপত্র না থাকার কারণে শ্রমিকরা সরকারি অনুদান পাচ্ছেন না।

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে শ্রমিকদের আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন সময়ে ৭০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। অন্য ক্ষেত্রের শ্রমিকরা এ সহযোগিতা নিতে পারলেও মোটর শ্রমিকরা নিতে পারে না। কারণ নিয়োগপত্র। কোম্পানির পক্ষ থেকে শ্রমিকরা নিয়োগপত্র পেলে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকে। ঢাকা বাসের মালিকপক্ষকে নিয়োগপত্র দেয়া, বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছি।

অন্যসব কোম্পানি শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও বেতনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলেও দেশ ও ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই তাদের বেতন বৃদ্ধি করবেন না। এই নিয়ে ওই দুই কোম্পানির শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, আমরা চাই না যে গাড়ি বন্ধ থাক। আমরা কাউকে গাড়ি বন্ধ করার কথা বলছিও না। আমরা চাই গাড়ি চলুক। অন্য কোম্পানি শ্রমিকদের বেশি বেতন দিচ্ছে তা দেখেই ওই দুই কোম্পানির শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষে গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। অন্যসব গাড়ি ঠিকই চলছে।

সর্বশেষ সংবাদ