রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৩
Homeঅন্যান্যসর্বকালের সবচেয়ে দামি ফটোগ্রাফ হতে চলেছে এই ছবিটি!

সর্বকালের সবচেয়ে দামি ফটোগ্রাফ হতে চলেছে এই ছবিটি!

১৯২৪ সালের জুনে সুররিয়ালিস্ট ম্যাগাজিন “লিটারেচার”-এ প্রথম প্রকাশিত এ ছবিটি ম্যান রে-র নিজের ক্যারিয়ারের তো বটেই, সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় পরাবাস্তববাদী ছবিরও একটিতে পরিণত হয়। বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয় ফটোগ্রাফ “লে ভায়োলন ডি’ইনগ্রেস”। এবার নিলামে বিক্রিত সর্বকালের সবচেয়ে দামি আলোকচিত্রেও পরিণত হতে পারে এটি। 

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসে যখন অকশন হাউজ ক্রিস্টিজে নিলামে তোলা হবে ম্যান রে-র এই বিখ্যাত কাজটিকে, এর দাম উঠবে ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। আর যদি তা-ই হয়, তাহলে নিলামের ইতিহাসে কোনো একটি একক আলোকচিত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি বিক্রয়মূল্য হবে এটি।

মার্কিন পরাবাস্তববাদী শিল্পী ম্যান রে সাদা-কালো ছবিটি তোলেন ১৯২৪ সালে। সেখানে পেছন থেকে একজন নারীর পিঠ দেখা যায়। পিঠের দুইদিকে থাকে দুটি এফ-হোল। এভাবেই একজন নারীর শরীরকে বেহালায় রূপান্তর করেন শিল্পী।

ফটোগ্রাফটির নামকরণ হয়েছে একটি বিখ্যাত ফরাসি অভিব্যক্তি “লে ভায়োলন ডি’ইনগ্রেস” থেকে, যার অর্থ “একটি শখ”। এ অভিব্যক্তিতে ফরাসি নিওক্লাসিকাল চিত্রশিল্পী জাঁ অগাস্টে ডোমিনিক ইংগ্রেসের রেফারেন্স টানা হয়েছে, যিনি অবসর সময়ে বেহালা বাজাতে পছন্দ করতেন।

ম্যান রে ইংগ্রেসের চিত্রকর্মের বড় ভক্ত ছিলেন। এই ছবি তোলায় তিনি “দ্য ভালপিনকন বাথার” (১৮০৮) ছবিটি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। আর ছবিটিতে পোজ দিয়েছিলেন তার তৎকালীন প্রেমিকা ও মডেল কিকি দে মন্তপারনাস।

১৯২৪ সালের জুনে সুররিয়ালিস্ট ম্যাগাজিন “লিটারেচার”-এ প্রথম প্রকাশিত এ ছবিটি ম্যান রে-র নিজের ক্যারিয়ারের তো বটেই, সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় পরাবাস্তববাদী ছবিরও একটিতে পরিণত হয়।

ম্যান রে-র পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল এমানুয়েল র‍্যাডনিজকি। ১৮৯০ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন প্যারিসে। তিনি ছিলেন দাদাবাদ ও পরাবাস্তববাদী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।

ক্রিস্টিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৬২ সালে নিউ ইয়র্কের এক দম্পতির স্বয়ং রে-র কাছ থেকে ফটোগ্রাফটি সংগ্রহ করেন। নিলামে এই মাস্টারপিসটি ছাড়াও বহুদিন ধরে দম্পতিটির সংগৃহীত আরও অনেক আর্টওয়ার্ক, ফটোগ্রাম, গহনা ও পোস্টারও বিক্রির জন্য তোলা হবে।

নিউ ইয়র্কের সেই দম্পতির কেউই অবশ্য এখন বেঁচে নেই। স্যাকস ফিফথ এভিনিউর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও সিইও জেকবস ১৯৯৩ সালে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। এদিকে তার স্ত্রী রোজালিন্ড গার্স্টেন জেকবস দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন মেসিজের নির্বাহী। ২০১৯ সালে ৯৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। সংগ্রহগুলো নিলামে তুলছেন তাদের মেয়ে পেগি জেকবস বেডার।

এখন পর্যন্ত নিলামে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রিত ফটোগ্রাফের রেকর্ডটি রয়েছে আন্দ্রেস গুরস্কির “রাইন টু”-র দখলে। ২০১১ সালে ৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে জার্মান ফটোগ্রাফারের তোলা ছবিটি বিক্রি হয় ক্রিস্টিজ থেকেই।

  • সূত্র: সিএনএন 

সর্বশেষ সংবাদ

No posts to display