ঢাকাবুধবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২

রহস্য ও বিস্ময়কর স্থাপত্য বেহুলার বাসরঘর

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ । ৩০৫ জন

গ্রীনসিটি ডেস্ক:

বগুড়া সদরের গোকুল গ্রামে রহস্যময় ও বিস্ময়কর ‘তিন কোণ’ বিশিষ্ট স্থাপত্য বেহুলার বাসরঘরের অবস্থান। যা গোকুল মেধ বা লক্ষীন্দরের মেধ বলেও পরিচিত। অনেকেই প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শনকে বেহুলার বাসরঘর বলে থাকলেও প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, এটি আসলে একটি বৌদ্ধ মঠ।

বগুড়া শহর থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তর-দক্ষিণে আর মহাস্থানগড়ের কাছে গোকুল, রামশহর ও পলাশবাড়ি গ্রামের সংযোগস্থলেই এই গোকূল মেধ।

স্থানীয়ভাবে বেহুলার বাসরঘর নামেই পরিচিত। ইতিহাস বলছে, এটি একটি প্রচীন বৌদ্ধ মঠ।

অনেকেই বলে থাকেন, এখানেই হয়েছিলো বেহুলার বাসর। যা সেনযুগেরও অনেক আগে। তবে বর্তমানে গবেষকদের মতে, এটি ৮০৯ থেকে ৮৪৭ খৃস্টাব্দে দেবপাল নির্মিত একটি বৌদ্ধমঠ।

বেহুলার বাসরঘর বা এই বৌদ্ধমঠটি মূলত একটি উঁচু ইটের স্তূপ। এর উচ্চতা প্রায় ১৩ মিটার বা ৪৫ ফিট। ১৯৩৪-৩৬ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এখানে বিভিন্ন মাপের ১৭২টি কুঠুরি আবিষ্কৃত হয়। কক্ষগুলো দেখতে তিন কোণের মতো।

স্তূপটির পশ্চিম অংশে আছে বাসরঘরের প্রবাদ স্মৃতিচিহ্ন। পূর্বে ২৪ কোণ বিশিষ্ট চৌবাচ্চাসদৃশ একটি স্নানাগার। স্নানাগারের মধ্যে আবার ৮ ফুট গভীর কূপ।

আগত পর্যটকরা জানান, আসলে এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। একটাকে বেহুলার বাসরঘর বলা হয়। এগুলোতে আসলে আমরা ঐতিহাসিক সম্পর্কে জানতে আরও আগ্রহী হব।

এটি নির্মাণ করা হয়েছিল পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানীকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী-রংপুর অঞ্চলের পরিচালক নাহিদা সুলতানা বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই স্থানটি পরিদর্শন করে থাকেন। এটির সাথে যে মিথ বা কিংবদন্তী জড়িয়ে আছে যে বেহুলার বাসরগর, সেটিও পর্যটকদেরকে ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করে।

সবকিছু ছাপিয়ে প্রচীনকাল থেকেই লোকমুখে পরিচিত লোককথার সেই মনাসামঙ্গল কাব্যের বেহুলার বাসর হিসেবেই।

একুশে ইটিভি