রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৩
Homeঅর্থনীতিসংরক্ষণাগার হলে বাঘার হলুদ চাষীদের সুদিন ফিরবে

সংরক্ষণাগার হলে বাঘার হলুদ চাষীদের সুদিন ফিরবে

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রতিবছরই জেলার বাঘা বিপুল পরিমানের হলুদ চাষ হয়। তবে স্থানীয় বাজারে দাম না পাওয়া ছাড়াও বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে হলুদের বীজ সংরক্ষণের বিষয়টি। সংশ্লিস্টরা বলছেন- হলুদ বা হলুদের বীজ সংরক্ষণাগার থাকলে চাষীরা সময় মতো তাদের উৎপাদিত ফসল ইচ্ছে মতো সময়ে বিক্রি করতে পারবনে। এতে করে ভালো দাম পাবেন চাষীরা।

জানা গেছে- রাজশাহীর বাঘায় এবছর হলুদের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও বাজার এবং চাতাল ঘুরে দেখা গেছে- মাঠে কৃষকরা হলুদ উঠাতে ব্যস্ত। চাষীরা বিভিন্ন যানবাহনে করে বস্তা বস্তা হলুদ বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসছে। ব্যবসায়ীরা কাঁচা হলুদ কিনে চাতালে সিদ্ধ করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে শুরু করেছে।



উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, উপজেলার হলুদ আমের মতো বিদেশে রফতানি করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সেই বিষয় নিয়ে কথা বার্তা চলমান রয়েছে।

আড়ানী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোচর মহল্লার হলুদ মজবুল হোসেন জানান, উপজেলায় পাবনায়, গাঙ্গীয়া, সোনামুখী, ডিমলা বারী-১ প্রভৃতি জাতের হলুদ চাষ হয়। এবছর গাঙ্গীয়া জাতের হলুদ ফলন ভাল হয়েছে। এ জাতের হলুদ আকারে মোটা এবং রঙ অন্যান্য হলুদের তুলনায় ভাল। প্রতি বিঘা জমিতে ৫০ থেকে ৫৫ মণ উৎপাদন হয়।

প্রতিমণ কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত। হলুদ চাষে জৈবসার ব্যবহারে খরচ খুব কম হয়। বিঘা প্রতি সার ও বীজসহ খরচ হয় প্রায় আট থেকে ১০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমির কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকায়।



গোচর গ্রামের হানিফ আলী জানান, বাগানের ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদ চাষ ভাল হয়। এক সাথে ফল ও হলুদ দুটো পাওয়া যায়।
হামিদকুড়া গ্রামের বিরাজ উদ্দিন জানান, এ বছর বীজের দাম বেশী হওয়ায় এবং রোপণের সময় বীজ সংকটের কারণে বেশী জমিতে আবাদ করা যায়নি। হলুদ উঠানোর সময় বীজ সংরক্ষণ করতে হয়। সরকারি ভাবে বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে আগামীতে অনেক চাষী হলুদ চাষ করতে আগ্রহী হবে। সরকারিভাবে বীজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি করেন চাষীরা।

হলুদ চাষী জহুরুল ইসলাম এবছর আড়াই বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করে ১০০ মণ হলুদ পেয়েছেন। হলুদ ব্যবসায়ী একরামুল হক জানান, আড়ানীর হলুদের সুনাম দেশ ব্যাপী রয়েছে। আমরা প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার হাটে হলুদ কিনে ঢাকা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন জায়গাতে নিয়ে যায়।


আড়ানীর চাতাল ব্যবসায়ী রহমান বাবলু জানান, উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় পাঁচ শতাধিক চাতাল রয়েছে। কাঁচা হলুদ কিনে সিদ্ধ করে শুকিয়ে কিছু দিন ঘরে রেখে বিক্রি করি।

বর্তমানে ৪০ কেজি শুকনা হলুদ তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমি প্রায় তিন হাজার মন কাঁচা হলুদ কিনে সিদ্ধ করে শুকানো হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, এবছর উপজেলায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা আট হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার পাশ দিয়ে বড়াল নদী বয়ে যাওয়ায় জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না। উচু ও ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদের ফলন ভাল হয়।

সর্বশেষ সংবাদ

No posts to display