শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩
Homeপরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যবিশ্ব বন্য প্রাণী দিবস: পার্কে ‘সুন্দর’ নেই বন্য প্রাণী

বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবস: পার্কে ‘সুন্দর’ নেই বন্য প্রাণী

পার্কে ৭৬ প্রজাতির ১ হাজার ৬০০ প্রাণীর জন্য ভেটেরিনারি চিকিৎসক আছেন মাত্র একজন। ভিন্ন ভিন্ন প্রাণীর রোগের চিকিৎসার জন্য সেখানে চার-পাঁচজন চিকিৎসক প্রয়োজন বলে মনে করেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ প্রথম আলোকে বলেন, অব্যবস্থাপনার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে অনেক প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। সেখানে দক্ষ জনবল নেই। প্রশিক্ষিত লোকজন থাকলে এমনটা হতো না।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই পার্কে থাকা জেব্রা অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করার স্থান পুরোপুরিভাবে তৈরি হবে। বেশ কিছু বেষ্টনীর সংস্কারকাজ চলমান। চিকিৎসক–সংকটের বিষয়টি বন বিভাগ বিবেচনা করবে। বর্তমানে পার্কের সব প্রাণী সুস্থ আছে।

পার্কে করোনাভাইরাস

চলতি বছরের ২ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পার্কের মোট ১১টি জেব্রার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। কমিটিকে সহায়তা করতে বলা হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। সম্প্রতি সিআইডির একটি তদন্ত প্রতিবেদনে পার্কে মারা যাওয়া একটি জেব্রার শরীরে করোনাভাইরাসের নমুনা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনটির মৃত্যু হয়েছে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার কারণে। বাকিগুলোর মৃত্যু হয়েছে খাদ্যে বিষক্রিয়ায়। ১১টির মৃত্যুর পর বর্তমানে পার্কে ২০টি জেব্রা আছে।

পার্কে ১০টি বাঘের মধ্যে ১টির মৃত্যু হয়েছে গত ১২ জানুয়ারি। রোগাক্রান্ত হয়ে দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বাঘটির মৃত্যু হয়। ল্যাব পরীক্ষায় মৃত বাঘের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পাওয়া গেছে। অপরদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রোগাক্রান্ত হয়ে একটি সিংহীর মৃত্যু হয়।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে জিরাফ, জেব্রাসহ বেশ কিছু প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, জেব্রাসহ তৃণভোজী প্রাণীগুলোকে ৩০ দিন বা এর চেয়ে কম বয়সী ঘাস খাওয়ানো হচ্ছিল। এসব ঘাসে নাইট্রেট নাইট্রোজেনের উপস্থিতি বেশি থাকে। তাই তৃণভোজী প্রাণীকে অন্তত ৬০ দিন বয়সী ঘাস খাওয়ানো নিরাপদ বলে প্রতিবেদনে মত দিয়েছে সিআইডি।

পার্কে কুমিরের লেকে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল

সাফারি পার্কে একদিন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের বর্তমান চিত্র দেখতে গতকাল বুধবার সেখানে যান এই প্রতিবেদক। পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশে কোয়ারেন্টিন জোনের ভেতর রাখা এক জোড়া লেপার্ড। ২০১৭ সালের নভেম্বরে যশোর থেকে এ দুটি লেপার্ড চোরাকারবারির হাত থেকে উদ্ধার করা হয়। ডাক গার্ডেনে বিশাল লেকের পানিতে এখন আর কোনো হাঁস নেই। তিন বছর আগেও এই লেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের হাঁসের দেখা মিলত। পার্কের পশ্চিমে ধনেশ অ্যাভিয়ারিতে একমাত্র পেলিক্যানের (গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের পাখি) বাস। জোড়া পেলিক্যানের একটি চার বছর আগে মারা গেছে।

পার্কের কোর সাফারি অংশে জেব্রা, জিরাফ, ওয়াইল্ডবিস্টসহ নানা প্রাণীর বাস। প্রাণীগুলোকে মাটিতে খাবার দিতে দেখা যায়। বেষ্টনীর ভেতরে থাকা কৃত্রিম লেক খাওয়ার পানির উৎস। ১১টি জেব্রার মৃত্যুর পর প্রাণীগুলোকে খাবার দেওয়ার জন্য বিশেষ পাত্র ব্যবহারসহ ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। এসব নির্দেশনার সব কটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

বর্তমানে পার্কে কুমিরের লেকে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল। ম্যাকাওসহ বিভিন্ন পাখির শেডের তারে জং ধরেছে। ময়ূর অ্যাভিয়ারির বিভিন্ন জায়গার জাল ছিঁড়ে গেছে।

পার্কের প্রকল্প পরিচালক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তৃণভোজী প্রাণীর খাবার দেওয়ার পাত্র তৈরি হয়ে যাবে। বর্তমানে পার্কের সব প্রাণীকে সুরক্ষার জন্য যা যা করা দরকার, সবকিছুই ক্রমান্বয়ে করা হচ্ছে।

প্রথম আলো

সর্বশেষ সংবাদ