শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩
Homeকৃষিবরেন্দ্র অঞ্চেলে পাতকুয়ার সুফল পাচ্ছে ২৩ হাজারের বেশি মানুষ

বরেন্দ্র অঞ্চেলে পাতকুয়ার সুফল পাচ্ছে ২৩ হাজারের বেশি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বিনাখরচে পাতকুয়ার মাধ্যমে সেচের সুবিধা পাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের ২৩ হাজার ১০২ জন চাষী। ফলে স্বল্প সেচের মাধ্যমে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে চাষীদের আস্থার জায়গায় রূপান্তরিত হয়েছে ৪২০টি পাতকুয়া।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচের দিকে নামছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা। এ অঞ্চলের কৃষি ও সুপেয় পানির নির্ভরযোগ্য আধার ছিল পাতকুয়া। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাবমার্সিবল পাম্প, গভীর নলকূপসহ নানা প্রযুক্তির কাছে হারিয়ে যায় পাতকুয়া। দীর্ঘদিন পর আবারও কৃষি কাজসহ অন্যান্য কাজের জন্য পাতকুয়ার প্রয়োজন অনুভব করছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। এতে করে বরেন্দ্র আঞ্চলে সেচ কাজসহ বহুমুখি ব্যবহার শুরু হয় পাতকুয়ার।

বিএমডিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী আঞ্চলের পবা উপজেলাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা, নাচোল, গোমস্তপুর ও নওগাঁ জেলার সাপাহার, পোরশা, ধামাইরহাট, পতœীতলা, নিয়ামতপুর এবং মহাদেবপুরের ৯ উপজেলায় পাতকুয়া রয়েছে। এখান থেকে ৫ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌরশক্তি চালিত ৪২০ টি পাতকুয়া নির্মাণ করা হয়। এসব পাতকুয়া মাধ্যমে ১ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। যার মাধ্যমে বছরে ২৫ কোটি টাকার স্বল্প সেচের ফসলের আবাদ সম্ভব হয়েছে।

কৃষক ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা বলছেন, পাতকুয়ার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনমান পাল্টে গেছে। মহাদেবপুরের উপকারভোগী কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, গত মৌসুমে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে তিনি সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে ফসলে সেচ দেয়ায় পানির সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, লাউ, মরিচ চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, টমেটো, আলু চাষের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে হওয়ায় আজিজুলের মতো অনেক চাষী খুশি।
পবা উপজেলার আরেক কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাতকুয়াগুলো সূর্যশক্তিতে চলার কারণে বিদ্যুৎ বা ডিজেল ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া ইচ্ছে মতো পানি তোলা যায়।

পোরশা উপজেলার মাজেদুল ইসলাম জানান, গত রবি মৌসুমে অন্য কৃষকদের পাশাপাশি তিনি নিজেও ৫ বিঘা জমিতে সবজির আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। সেইসঙ্গে অন্যরাও এর মাধ্যমে সবজি চাষে লাভবান হয়েছেন।

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ বলেন, পাতকুয়া খননের মাধ্যমে বরেন্দ্র এলাকায় স্বল্পসেচে ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় পাতকুয়া নির্মাণ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বিএমডিএ। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে শুরু হয়ে ২০২০-২১ অর্থ বছরের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এর কার্যকারিতা অব্যাহত রয়েছে। আর এসব পাতকুয়ায় মাধ্যমে সুবিধাভোগ করছেন ২৩ হাজার ১০২ জন। পাতকুয়ার মাধ্যমে স্বল্পসেচের বিভিন্ন ফসল চাষে বিনামূল্যে সেচ সুবিধা পাওয়ায় উপকৃত হচ্ছে এসব উপজেলার হাজারো প্রান্তিক কৃষক।

বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান বেগম আখতার জাহান বলেন, পাতকুয়ার সুবিধা হল- এখানে কোনো কৃষকের কাছ থেকে পানি খরচ নেওয়া হয় না। শুষ্ক মৌসুমে এটা খুবই কার্যকর। কৃষকবান্ধব সরকার কৃষকের জন্য নিত্য-নতুন সেচের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন। পতকুয়ার ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে এলাকার কৃষকদের মাঝে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এগুলোর যথোপযুক্ত ব্যবহার হবে বলেও আমরা যথেষ্ট আশাবাদি।

সর্বশেষ সংবাদ