শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩
Homeজাতীয়এবার ল্যাট্রিন ব্যবস্থাপনা শিখতে বিদেশ যাবেন কর্মকর্তারা

এবার ল্যাট্রিন ব্যবস্থাপনা শিখতে বিদেশ যাবেন কর্মকর্তারা

গ্রীনসিটি ডেস্ক:


এবার ল্যাট্রিন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নিতে বিদেশে যেতে চান ৯ কর্মকর্তা। নিম্ন আয়ের মানুষের স্যানিটেশনের আওতায় আনতে এ প্রকল্প। শুধু বিদেশ ভ্রমণ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে অর্ধকোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক কর্মশালা ও সেমিনারে অংশ নিতে দুই দফা বিদেশ যাওয়ার আবদার তাদের। কোন দেশে যাবেন সেটি উল্লেখ নেই। তবে প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবের অনেক বিষয়ের সঙ্গে একমত নয় পরিকল্পনা কমিশন।

‘ওয়াশ সেক্টর স্ট্রেনদেনিং অ্যান্ড স্যানিটেশন মার্কেট সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তাদের এ প্রস্তাব। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য দেশের ১২ লাখ পরিবারের প্রায় ৫৪ লাখ মানুষের স্যানিটেশন ব্যবহারের ধারণা, রক্ষণাবেক্ষণ, সুস্বাস্থ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সুবিধা এবং সিস্টেম শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে জীবনযাত্রার উন্নয়ন করা।

প্রকল্পে প্রমোশন বাবদ পাঁচটি ফার্মের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রশিক্ষণ খাতে ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ছাড়াও বিহ্যাভিয়ার মেসেজিং (আচরণগত বার্তা) খাতে ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (পলিসি সাপোর্ট অধিশাখা) নুমেরী জামান জাগো নিউজকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষদের স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় আনা হবে। এছাড়া কাজ হবে স্যানিটেশন পলিসি নিয়ে। একসময় দেশে অনেক মানুষ খোলা স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করত। কিন্তু এখন স্যানিটেশনের অনেক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর হয়েছে। সুতরাং স্যানিটেশনে আরও কীভাবে উন্নয়ন করা যায় সে বিষয় নিয়ে পলিসি লেভেলে কাজ হবে।

jagonews24

স্যানিটেশেনর ধারণা নিতে কর্মকর্তাদের দুই ধাপে বিদেশ ভ্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এখনো ফাইনাল স্টেজে আসেনি। সবকিছুই প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে একই জিনিস দুটি জায়গায় থাকার কথা নয়।

প্রকল্পের প্রস্তাবনা এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ১৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এতে সুইজারল্যান্ডের সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) ১১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা অনুদান দেবে। বাকি অর্থ মেটানো হবে সরকারি খাত থেকে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পাঁচ বছর মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ৭০ হাজার ল্যাট্রিন নির্মাণ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা। এছাড়া অধিকাংশ খাতই মূলত বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, পরিমর্শক ও যানবাহন কেনা সংক্রান্ত।

প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকা হবে ৩৫ জেলা
নেত্রকোনা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, চাঁদপুর, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেটে বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জামালপুর, নড়াইল, যশোর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, নরসিংদী ও গাজীপুরে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ৭০ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবারে ল্যাট্রিন স্থাপন। ৩০টি প্রতিষ্ঠানে টেকসই স্যানিটেশন সার্ভিস দেওয়া।

প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে কিছু মতামত তুলে ধরেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের মতে, প্রকল্পে ১০ জন জনবল প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সুপারিশ দেওয়া হয়নি। এটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজের মধ্যে ৭০ হাজার দরিদ্র পরিবারের স্যানিটেশন সুবিধার জন্য ইনসেনটিভ বাবদ প্রতিজনের জন্য চার হাজার টাকা হিসেবে মোট ২৮ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতের আওতায় চার হাজার টাকায় কী ধরনের ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

হাউজহোল্ড পর্যায়ে স্যানিটেশন ব্যবস্থা টেকসই করার স্বার্থে বর্তমানে ইটের গাঁথুনিযুক্ত ল্যাট্রিন নির্মাণের বিষয়টি বিভিন্ন প্রকল্পে বিবেচনা করা হচ্ছে।

jagonews24

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সেবা খাতে ৯৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ। এক্ষেত্রে জনগণ, সুফলভোগী কী সুবিধা পাবেন সে বিষয়সহ প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ পরামর্শক খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

প্রকল্পের আওতায় তিনটি জিপ কেনার সংস্থান রাখা হয়েছে। কারিগরি এ প্রকল্পের জন্য তিনটি জিপ গাড়ি কেনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, এর আগেও স্যানিটেশন কাজে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়। আমি একটাই কথা বলবো, জনগণের অর্থ কোনোভাবেই যেন অপচয় না হয়। আমরা সেভাবেই প্রকল্প অনুমোদন দেই। কেউ চাইলেই অনুমোদন দেবো না। আমাদেরও নিজস্ব বডি আছে প্রকল্প মনিটরিং ও অনুমোদনের জন্য।

নানান কারণে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। বাংলাদেশ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় উন্নীত হওয়া প্রক্রিয়াধীন। বাংলাদেশে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে প্রায় চার কোটি গ্রামীণ জনসাধারণ এখনো উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা ঠিকমতো পাচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকার অনুন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের আওতাবহির্ভূত দরিদ্র অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বদ্ধপরিকর। এর মাধ্যমে মলমূত্র নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিশোধন অথবা সঠিকরূপে অপসারণ সম্ভব হবে।

সুইজারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) মাধ্যমে সফলভাবে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালে ‘সেক্টর পলিসি ও স্যানিটেশন মার্কেট ডেভেলপমেন্ট (স্যানমার্কস) নামে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ। এ প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করে এসডিসি ও বাংলাদেশ সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পলিসি সাপোর্ট অধিশাখা ছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড), বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড) ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। জাগোনিউজ

সর্বশেষ সংবাদ