শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩
Homeরাজশাহী প্রতিদিনচাঁপাইনবাবগঞ্জআমনুরায় হচ্ছে কি রেলবন্দর?

আমনুরায় হচ্ছে কি রেলবন্দর?

গ্রীনসিটি ডেস্ক:


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আমনুরায় কি হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর! দায়িত্বশীল কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে ঘোষণা না এলেও আমনুরার মানুষের মধ্যে চলছে খুশির উৎসব। অন্যদিকে, জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে রেলবন্দরের দাবিতে ওই এলাকার মানুষ সোচ্চার আছে। এনিয়ে রহনপুর রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর স্থাপনের দাবিতে আগামী শুক্রবার (১১ মার্চ) জনসভার ডাকও দেয়া হয়েছে।

তবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার বলেন, আমনুরায় রেলবন্দর স্থাপন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যে অবকাঠামো আছে আর ৫০ কোটি টাকা খরচ করলেই রেলবন্দরটি তৈরি হবে। এছাড়াও ভারত, নেপালসহ অন্যান্য দেশ তাদের ব্যবসার স্বার্থে আমাদের রেলবন্দরকে সম্প্রসারিত করার জন্য নানাবিধ সহায়তা দিতে আগ্রহী।

জানা গেছে, ৩টি সংস্থার সমীক্ষা, গেজেট পাশ, এনবিআর-এর অনুমোদন অবকাঠামোগত সুবিধা বিপুল পরিমাণ রেলের জমি ও খরচ বিবেচনায় রেলবন্দরটি হতে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায়। এমন কথাই চাউর হয়েছে- স্থাণীয়তেদর মধ্যে। আমনুরায় রেলবন্দরে পক্ষে রেল কাস্টম, ইমিগ্রেশন বিভাগ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ৭ মার্চ আমনুরা রেল স্টেশন চত্বরে সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদকে বিপুলভাবে সংবর্ধনাও দেয়া হয়।

জানা গেছে, বৃটিশ আমলে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে গোদাগাড়ী ঘাট, আমনুরা, রহনপুর ও ভারতের সিঙ্গাবাদ, মালদা মিটার গেজ সেকশন চালু করে কাটিহার ব্রাঞ্চ রেলওয়ের অধীনে ছিল। শিয়ালদহ থেকে লালগোলা ঘাট ব্রডগেজ ট্রেন এসে রেলফেরিঘাট পার হয়ে পদ্মার উত্তরপাড়ে গোদাগাড়ী ঘাটে অপেক্ষামান মিটারগ্রেজ ট্রেনে চড়ে মালদা, কাটিহার, শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গ যেতেন এ পথের যাত্রীরা।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর রাজশাহী গোদাগাড়ী ঘাট, আমনুরা, রহনপুর, মিটার গেজ সেকশন ছোট মিটার গেজে পরিণত হয়। পরবর্তীতে রেল কর্তৃপক্ষ ২৩.৩৩ কিলোমিটার মিটার গেজ তুলে ফেলেন। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে রহনপুর স্টেশন থেকে সিঙ্গাবাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপিত করে। ২৫০ বছরের পুরনো রেল জংশন আমনুরা আবারও ভারতের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। আমনুরায় আনুষ্ঠানিকভাবে রেলবন্দর ঘোষণা করায় ঐতিহাস্যিক ৭ই মার্চ বিকেলে আমনুরা রেল স্টেশন চত্বরে এক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদকে বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয়।

আমনুরা ঝিলিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান বলেন, আমনুরা ত্রিদেশীয় করিডোরমুখি ১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন রেল জংশন। আমনুরাকে রেলবন্দরের ঘোষণা করায় ঐতিহাস্যিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আমনুরা রেলবন্দর স্টেশন চত্বরে এক গণসমাবেশের মাধ্যমে সাবেক এম.পি আব্দুল ওদুদ কে বিপুলভাবে সংবর্ধনা দেয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে তিনিসহ এলাকাবাসি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রহনপুর উন্নয়ন আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. নাজমুল হুদা খান রুবেল বলেন, বর্তমানে এ রেলপথ দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি ও বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য নেপালে রপ্তানি করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব উদ্দীন বলেন, আমনুরা রেল স্টেশনটি মূলত বরেন্দ্র অঞ্চলে অবস্থিত। রেলবন্দর স্থাপন করার জন্য সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আমনুরায় রেলবন্দর ঘোষণা করায় জেলাবাসির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান তিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিশাল বরেন্দ্র অঞ্চলের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হবে।

চাঁপাাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদ বলেন, শুধু আমনুরা রেলবন্দর নয়, সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত ১৩ বছরে আগ্রাসী পদ্মা নদীর ভাঙন, চর অঞ্চলের সাথে জেলা সদরের কানেকটিং রোড শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে ১টি আধুনিক জেলায় পরিবর্তন এনেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দর স্থাপনের দাবিতে আগামী শুক্রবার (১১ মার্চ) আহবানকৃত জনসভা নিয়ে তিন উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় করেছে রহনপুর রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদ। মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সভায় গোমস্তাপুর-নাচোল-ভোলাহাটের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।এতে বক্তব্য সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত)সভাপতি জিয়াউর রহমানও গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস,গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন রেজা, নাচোল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রমুখ।

সর্বশেষ সংবাদ