শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩
Homeরাজশাহী প্রতিদিনরাজশাহীঘরের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে পবার ১৫০ গৃহহীনের

ঘরের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে পবার ১৫০ গৃহহীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক:


মুজিবজন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রাজশাহীর পবা উপজেলার আরো ১৫০টি ঘর বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি ঘর বিতরণের সব প্রস্তুতি সম্পন্নের পথে। বাকি ১০০টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীনদের মাঝে এসব ঘর বুঝিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পবা উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় নওহাটা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের মহানন্দখালী এলাকায় ৩৩ শতক জমিতে নির্মিত মোট ১০টি ঘর নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়। এর মধ্যে ১০টি ঘর বিতরণের জন্য নির্মাণ কাজ শেষের দিকে।

পবা উপজেলার ‘ক’ তালিকাভুক্ত উপকারভোগীর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ইতোমধ্যে ৫০টি পরিবারকে ঘর হস্তান্তরের জন্য মনোনিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগসহ দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। প্রকল্প এলাকাবেষ্টিত বন্দোবস্ত অযোগ্য ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত পতিত ভূমি রয়েছে; যেখানে ভূমিহীনরা বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

রোববার (৩ এপ্রিল) সকালে মহানন্দখালি গেলে সঙ্গীরা টপ্পো (৫০) নামের এক নারী বললেন, ‘নিজের কোনো ঘর ছিল না। স্বামীক লিইয়ি একহাঁটু জলের ওপর ভাউড় করে থাকতু।’ ভাউড় কী জানতে চাইলে সঙ্গীরা বললেন, ‘বাইদ্যাদের মত ঘর। বাইদ্যার ঘর মাটিতে থাকে, আমাদের থাকত মাঁচানের ওপর। কোনোদিন ইটের ঘর হবে তা কল্পনাতেও ভাবতে পারিনি। যে খুশি পেয়েছি, তা আর হয় না। জীবনের শেষ সুমায়ডা সুখে থাকতে পারব।’

স্বামীহারা সীমা রানী (৩২) ছেলে-মেয়েকে নিয়ে এই টংঘরেই থাকেন শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে। সীমার জন্য ঘর বরাদ্দ হয়েছে। আলাদা ঘর পাচ্ছেন তার শ্বশুর-শাশুড়িও। সীমা বললেন, ‘আমরা মাঠে-ঘাটে কাজ করে সংসার চালাই। যা আয় করি তা দিয়ে পেট চলে না। জমি কিনে বাড়ি করা অসম্ভব। শেখ হাসিনা সরকার আমাদের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। আমাদের দুঃখ শেষ হচ্ছে।’

সীমার কথা শেষ না হতেই পাশ থেকে জামাল ওরাও (৫৭) বললেন, ‘যুদ্ধের পর থেকেই এইখানে এই ভাউড়েই থাকি। কাঁদাপানির সাথেই মিশে ছিল আমাদের জীবন। যে বিপদে ছিলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। এখন আমরা খুউব সুখি, খুউব আনন্দ!’
কার্তিক লাকড়া (৪০) নামের আরেকজন জানালেন, টংঘরে তাদের বিদ্যুৎ নেই। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া মেয়েটা পড়ে কুপির আলোয়। নতুন ঘর হচ্ছে। সে ঘরে বিদ্যুৎ থাকবে। মেয়েটা বিদ্যুতের আলোয় পড়াশোনা করবে। মানুষের মত মানুষ হবে।’ এ স্বপ্নে বিভোর তিনি।

জানা গেছে, প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ১৫০টি ঘর নির্মাণে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বাড়িগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বিশুদ্ধ পানিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩ উদ্বোধন উপলক্ষে এরই মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হকসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল সোনার দেশকে বলেন, গৃহহীন মানুষকে ঘর দেওয়ার প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। আমরা এই প্রকল্পের আওতায় পিছিয়ে পড়া মানুষকে এগিয়ে নিতে তৃতীয় পর্যায়ে সেমিপাকা বাড়ি করে দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো- দেশে কেউ ভূমিহীন, গৃহহীন থাকবে না। যতদিন পর্যন্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে, ততদিন আমাদের কার্যক্রম চলবে। আমরা শতভাগ মানুষের ভূমি ও গৃহ নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছি। আর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক সোনার দেশকে বলেন, রাজশাহীতে গুণগতমান বজায় রেখে গৃহ নির্মাণ করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে। যেসব ভূমিহীন এখনও ঘর পাননি তাঁরা সবাই পর্যায়ক্রমে ঘর পাবেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। ইট, সিমেন্ট ও বালুসহ গৃহ নির্মাণ সামগ্রী যাতে মানসম্পন্ন হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার লসমী চাকমা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক প্রকল্পের অগ্রগতির খোঁজ খবর রাখছেন। পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শেখ এহসান উদ্দীন সোনার দেশকে জানান, পবা উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ৩য় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৫০টি ঘর এ মাসের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে এবং ২য় ধাপে বাকি ১০০টি ঘর জুন নাগাদ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

গৃহহীনদের মাঝে ঘরের মালিকানা বুঝে দেয়ার জন্য সবরকম প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘর বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। সব ঠিক থাকলে এদিন নির্বাচিত উপকারভোগীরা নতুন ঘরে উঠতে পারবেন।

সর্বশেষ সংবাদ