রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৩
Homeরাজশাহী প্রতিদিনরাজশাহীতে জমেছে ইদের কেনাকাটা

রাজশাহীতে জমেছে ইদের কেনাকাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে জমেছে ইদের কেনাকাটা। নগরীর বিপণি-বিতানগুলোতে ক্রেতাদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার (১৬ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নগরীর সাহেববাজার, গণকপাড়া, নিউ মার্কেটের পোশাকের দোকানগুলো থেকে ক্রেতাদের পছন্দের জিনিস কিনতে দেখা গেছে।

ক্রেতারা বলছেন-ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক পোশাকের দাম বেশি চাচ্ছেন। যেসব পোশাক অন্য সময়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা ছিল। সেগুলো চাওয়া হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, পোশাকের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের বিক্রি মোটামোটি ভালো।

আরডিএ মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী ইদের বিক্রির বিষয়ে জানান, প্রতিদিন গড়ে তাদের ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ১৫ রোজার পরে বিক্রি আরও বাড়বে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বোনাস হয়েছে। ইদও ঘনিয়ে আসছে, এখন প্রতিদিনই বাড়বে বিক্রি।

দুপুরে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্রেতা গরমের কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক পোশাক কিনছেন। সেই দিক থেকে সর্বাগ্রে সুতি কাপড় পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এদিন মেয়েদের পোশাক, প্রসাধনীর দোকানেও বেশি ভিড় দেখা গেছে। মেয়েরা থ্রি পিস, কূর্তি, সালোয়ার, রেডিমেন্ট অ্যাম্বুটারি থ্রি পিস বেশি কিনছেন।

নাজীম উদ্দিন জানান, বৈশাখ মাস। তবুও বৃষ্টি নেই। ইদ গরমের মধ্যে হবে। তাই সুতি কাপড়ের পোশাক পছন্দ করছি; সেগুলোই কিনেছি। শুধু তাই নয়, পরিবারের সবার জন্যও সুতি কাপড়ের পোশাক কিনেছি।

অন্যদিকে, ছেলেদের পাঞ্জাবি, প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জির দোকানেও ক্রেতাদের তেমন ভিড় ছিল না। আরডিএ মার্কেটের তিন তলায় ছেলেদের পোশাকের দোকানগুলো অনেকটাই ফাঁকা ফাঁকা ছিল।

ব্যবসায়ী হিরা জানায়, কয়েকদিনের তুলনায় এখন বেশি ক্রেতা আসছে। তবে ১৫ রোজার পরে বিক্রি আরো বাড়বে। এখন বেশি শার্ট, প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ সুতি কাপড়ের খুঁজছেন ক্রেতারা। অনেকেই ফতুয়া কিনছেন; তার থেকে বেশি পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে।

তশা গ্যালারীর বিক্রেতা হৃদয় ইসলাম সবুজ জানান, জমেনি বিক্রি। প্রতিদিনই ক্রেতারা আসছেন, তবে তুলনায় কম। অনেকেই বাজার দেখতে এসেছেন। বিভিন্ন জিনিসের দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। অনেক সময় পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন। তবে বাজারে বিক্রি জমবে ১৫ রমজানের পরে।

পোশাক ক্রেতা মো. ইব্রাহীম জানান, অফিস বন্ধ ছুটির (শনিবার) দিন। কিছু কেনা-কাটার জন্য এসেছিলাম। ইদ এগিয়ে আসলে ভিড়ের কারণে কেনা-কাটা সমস্যা হবে। নিজের পোশাক ২০ রমজানের পরে কিনবো। এখন পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনে নিলাম।

অন্যদিকে, নগরীর বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতারা বেশ আগ্রহ নিয়েই কেনাবেচা করছেন। নামিদামি মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোর ব্যবসায়ীদের অনেকেই আলাপকালে বলেন, উচ্চবিত্তদের বড় অংশই রাজশাহীর চেয়ে ঢাকা থেকে পোশাকসহ বিভিন্ন ইদপণ্য কিনতে বেশি পছন্দ করেন। তারা পরিবারের সাথে ঢাকায় ইদের কেনাকাটা করেন।

আরডিএ মার্কেটে পোশাক ক্রেতা মোসা. শোভা জানান, নিজের শাড়ি ও স্বামীর পাঞ্জাবিসহ পরিবারের ছোট-বড় সবার জন্য পোশাক কিনেছি। দুই ননদের জন্যও কিছু উপহার কিনে পাঠিয়েছি। ছেলে-মেয়ে ঢাকায় শপিং করবে।

নগরীর খোজাপুর এলাকার রিকশাচালক আজিমুদ্দিন ফুটপাতে ইদের কেনাকাটা করছেন। তিনি বলেন, নিজের জন্য কিছু কিনবেন না। স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যই কেবল কাপড় কিনবো। নিজের জন্য চাঁদ রাতে পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি কিনলেই হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

No posts to display