ঢাকাসোমবার , ১৩ জুন ২০২২
  • অন্যান্য

সিটি হাটে উঠেছে কোরবানির পশু

জুন ১৩, ২০২২ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ । ১৯৬ জন

কোরবানি ইদের মাত্র ২৬দিন বাকি। এরই মধ্যে রাজশাহীর সিটি হাটে উঠেছে কোরবানির গরু ও মহিষ। দাম অনেকটা চড়াও হওয়ায় বিক্রি কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। রোববার (১২ জুন) দুপুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারিরা ও বাড়ীতে লালন-পালন করা এসব গরু ও মহিষ বিক্রি করতে হাটে এনেছেন অনেকেই।

ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, দেশে সব কিছুর দাম বেড়েছে। গরু ও মহিষের খাবার ও চিকিৎসা খরচ বেড়েছে। এবছর বাইরে থেকে গরু আমদানি না হলে প্রান্তিক চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তাদের ধারণা। সিটি হাটে এইদিনে প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার গরু এবং ২০০ থেকে ৩০০টি মহিষ বিক্রির জন্য বিক্রেতারা নিয়ে এসেছেন।

এর মধ্যে জার্সি, ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, চর এলাকার গরু রয়েছে। দেশি গরু সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। এসবগুলো দারুশা, সাংগ্রাই, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, মোহনগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে খামারি ও পালনকারীরা গরু নিয়ে এসেছেন।

উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় এই পশু হাটে এসেছেন বাগমারা উপজেলার বিরকয়া গ্রামের গরুর ব্যবসায়ী সোহরাব আলী। তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর থেকে তিনি গরুর ব্যবসা করে আসছেন। হাটে ক্রেতা কম। যারা দাম করছেন তারা- তারাও কম দাম বলছেন। তাতে গরু বিক্রি করা যাচ্ছে না। আমরা গৃহস্থ পরিবারের কাছ থেকে গরু কিনে নিয়ে আসি। বিভিন্ন হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেই। ২টি দেশি গরু নিয়ে এসেছিলাম। আমাদের চাওয়া ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায়।

এদিন অনেকেই বাড়িতে লালন-পালন করতে, কেউবা কোরবানির জন্য আগাম পশু কিনতে এসেছেন। তারা মনে করছেন কোরবানির গরুর দাম বাড়তে পারে। পবার খড়খড়ি থেকে গরু কিনতে আসা রিয়াজুল ইসলাম জানান, ‘বর্তমানে গরুর দাম বেশি। ভারত থেকে যদি গরু আসে তাহলে গরুর দাম কমবে। এখনো কোরবানির হাট জমেনি। তারপরও কোরবানির জন্য ৯৯ হাজার টাকায় গরু কিনলাম। ধারনা করছি ওজন হবে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ মণ। একমাস বাড়িতে লালন-পালন করবো।’

বিক্রেতা দারুশা সাইফুল জানান, গ্রামে বড় হওয়ায় গরু পালনে খরচ কম হয়। তবে সারা বছর হালকা খাবার খাওয়ালে হয়। মূলত সবুজ ঘাস, গমের ভূষি, খৈল, ধানের আউড় ও বিভিন্ন জাতের তৃণ খড় গরুর প্রধান খাবার। কোরবানির ২ মাস আগে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যতœ নিলেই কোরবানিতে বিক্রি উপযোগী হয়।

তিনি আরও জানান, গরুর দাঁত, ওজন, স্বাস্থ্য দেখে গরু কেনার পরামর্শ দেন তিনি। কারণ, বড় মোটা তাজা গরু দেখে কিনলে অনেকটা লোকসান ও ভোগান্তির মুখে পড়তে পারে ক্রেতারা। এটা একধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণা বলা হয়ে থাকে। কারণ, বর্তমানে অপ্রাপ্তবয়স্ক গরুকে মোটাতাজা করণ করার ক্ষেত্রে অনেক ঔষধ খাওয়ানো হয়। কয়েক মাসের গরুকে হাটে বিক্রির উপযোগী করা সম্ভব। কেনার পর যতেœর অনিয়ম হলেই শুকিয়ে যায় গরু।

হাটে মহিষের ক্রেতা খুবই কম। তবে বেশিরভাগ কষাইরা কিনছেন মহিষ। ক্রেতা আরমান বলেন, মহিষের মাংস ৭০০ টাকা কেজি। যেখানে গরুর মাংস ৬৫০ টাকা কেজি। বাজারে মহিষের মাংস ভালো বিক্রি হচ্ছে। তাই মহিষ কিনতে এসেছি। বাজারে মহিষের দাম সর্বোচ্চ ২ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আছে।

রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুল রহমান জানায়, এখনও কোরবানির হাট বসেনি। এখন নিয়মিত হাট বসছে। তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে কোরবানির হাটের জন্য।