ঢাকাশনিবার , ২৬ নভেম্বর ২০২২
  • অন্যান্য

‘উন্নয়ন না দেখলে চোখের ডাক্তার দেখান’

নভেম্বর ২৬, ২০২২ ৪:১৭ অপরাহ্ণ । ১১৩ জন

সরকারের উন্নয়ন না দেখলে চোখের ডাক্তার দেখাতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তলদেশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’র দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজের সমাপ্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সে অনুষ্ঠানে যোগ দেন সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন অনেকের চোখে পড়ে না। তাদের হয় চোখ নষ্ট। যদি চোখ নষ্ট হয় চোখের ডাক্তার দেখাতে পারে। আমরা একটা খুব ভালো আই ইনিস্টিটিউট করে দিয়েছি। সেখানে চোখ দেখালে আমার মনে হয় হয়তো তারা (উন্নয়ন) দেখতে পারবে। আর কেউ যদি চোখ থাকতে অন্ধ হয় তাহলে আমাদের কিছু করার নাই। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের অপজিশনের কিছু লোক আছে যারা চোখ থাকতে অন্ধ। তারা দেখেও না দেখার ভান করে। তারা নিজেরা কিছু করতে পারে না। ভবিষ্যতেও কিছু করতে পারবে না। দেশকে কিছু দিতেও পারবে না। ’

আ.লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় বসে নিজেরা খেতে পারবে, অর্থ চোরাচালান করতে পারবে, ওই ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানি করতে পারবে। ও রকম অস্ত্র অর্থ চোরাচালানি, অর্থ আর্থসাৎ এগুলো পারবে। তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করেনি, ভবিষ্যতেও করতে পারবে না; এটা হলো বাস্তবতা। ’

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সেটাও কিন্তু আমরা বাস্তবায়ন করছি। তাছাড়া আমরা ২০১০ থেকে ২০২০ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেটা আমরা বাস্তবায়ন করেছি। ২০২১ থেকে ২০৪১ এর মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। এই উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়া সেই পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে পঞ্চবার্ষিকীর মাধ্যমে সেটা আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না। ’

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে সত্যিই একটা দিন আমি অত্যন্ত আন্দন্দিত যে যেটা আমরা শুরু করেছিলাম আজকে সেই কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউব এই দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন করারই উৎসব উদযাপন আমরা করছি। আর কিছুদিন পরে দ্বিতীয় টিউবের কাজ যখন সম্পন্ন হবে পুরো টানেলটা আমরা উদ্বোধন করবো। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে আমরা বাণিজ্য রাজধানী বলে ডাকতাম। সেই চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেই। দুর্ভাগ্যের বিষয় পঁচাত্তরের পরে যারা ক্ষমতাসীন তারা চট্টগ্রামে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস ঢাকায় নিয়ে চলে আসে। চট্টগ্রাম প্রায় অবহেলিত অবস্থায় ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার সেই চট্টগ্রামকে নতুনভাবে গড়ে তোলে এবং তার গুরুত্ব বৃদ্ধি করে। ’

তিনি বলেন, ‘আজকে অন্তত এটুকু দাবি করতে পারি, আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ। জাতির পিতা যেভাবে চেয়েছিলেন, আমরা সেভাবে যাত্রা শুরু করেছি। দারিদ্র্যের হার আমরা কমিয়ে এনেছি। আমি বিশ্বাস করি, এ দেশ আর দরিদ্র থাকবে না। আমরা দারিদ্র্য দূর করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আর খাবারের জন্য হাহাকার করতে হয় না। ’

খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কারো যেন এক ইঞ্চি জমি অনাবাদি না থাকে। নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করব। কারো কাছে আমরা হাত পেতে চলব না। সেই নীতি নিয়ে সবাইকে চলার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। মিতব্যয়ী হতে হবে। ’

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যৌথভাবে কর্ণফুলী টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম টানেল টিউবের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন এবং ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয় টিউবের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন।

টানেলটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি প্রান্ত থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং আনোয়ারায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার লিমিটেড কারখানার মধ্যে নদীর তলদেশে সংযোগ স্থাপন করছে।

মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিমি এবং এতে দুটি টিউব রয়েছে। প্রতিটিতে দুটি লেন রয়েছে। এই দুটি টিউব তিনটি জংশনের (ক্রস প্যাসেজ) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে। এই ক্রস প্যাসেজগুলি জরুরি পরিস্থিতিতে অন্যান্য টিউবগুলিতে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। টানেল টিউবের দৈর্ঘ্য ২.৪৫ কিমি এবং ভেতরের ব্যাস ১০.৮০ মিটার।

মূল টানেলের পশ্চিম এবং পূর্ব দিকে একটি ৫.৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে টানেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ১০ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। চীনের এক্সিম ব্যাংক ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এবং বাকি অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণভবন প্রান্ত থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন,বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ।- বাংলানিউজ