বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩
Homeরাজশাহী প্রতিদিনরাজশাহীএক টাকা ভিজিটে মিলছে চিকিৎসা সেবা

এক টাকা ভিজিটে মিলছে চিকিৎসা সেবা

বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যখন সবার নাভিশ্বাস তখন চিকিৎসা সেবা মিলছে মাত্র এক টাকায়। সেই এক টাকাও রোগীদের ফেলতে হচ্ছে মাটির ব্যাংকে। রাজশাহীতে এভাবেই এক টাকা ভিজিটে রোগী দেখছেন সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল নামে এক  চিকিৎসক। শিক্ষক বাবার স্বপ্ন পূরণে এক টাকা ভিজিটে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তিনি। সুমাইয়ার এক টাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়ে আলোচনায় এখন সবমহলে।

ডা. সুমাইয়ার বাড়ি রাজশাহীর সাহেববাজারে। তিনি নগরীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান সরকারি কলেজের প্রভাষক মীর মোজাম্মেল আলীর মেয়ে। মীর মোজাম্মেল আলীর চার ছেলে-মেয়ে। তার তিন মেয়ে চিকিৎসক আর এক ছেলে প্রকৌশলী। সুমাইয়া ২০২০ সালে ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে ডা. সুমাইয়ার এই মহান উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তিনি।

সুমাইয়ার পোস্টারে লেখা, ‘মাত্র এক টাকা ভিজিটে রোগী দেখা হয়। রোগী দেখবেন ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল (এম.বি.বিএস)। রোগী দেখার সময় শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সেই পোস্টারে রয়েছে মুঠোফোন নম্বরও।’

বিষয়টি সবাইকে জানাতে পোস্টারের ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। এতে লেখেন ‘আব্বুর জনসেবার ছোট্ট একটা ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা।’ এরপর সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। সুমাইয়ার স্বামী আবদুর রহিম বিশ্বাসও চিকিৎসক। এছাড়াও তিনি বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখেন ১০০ টাকা ভিজিটে।

চিকিৎসা নেওয়া মিলন প্রসাদ সেন জানান, লোকমুখে শুনে গিয়েছিলাম চিকিৎসা নিতে। তিনি অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। সবাই প্রশংসা করছে। এতে করে গরীব মানুষের অনেক উপকার হবে। তিনি আমার কাছে সব কথা শুনলেন। প্রেসার মেপে ওষুধ দিলেন। কথাবার্তা ভালো বলছেন। চিকিৎসা শেষে একটা ভিজিট দিতে চাইলাম তিনি ব্যাংকে ফেলতে বললেন। হয়তো তিনি এই টাকাগুলো গরীবের কল্যাণে কাজে লাগাবেন।

চিকিৎসা নিতে আসা সুমন ইসলাম বলেন, এক টাকায় চিকিৎসা সেবা ভাবাই যায় না। এমন উদ্যোগ রাজশাহীতে প্রথম। ডাক্তারের কথাবার্তা ভালো, চিকিৎসা ভালো হলে রোগীরা আসবে। দেখলাম ভালো পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ডা. সুমাইয়া বলেন, বাবার স্বপ্ন পূরণে কাজ করছি। প্রতি রোগীর থেকে এক টাকা ভিজিট নেওয়া হচ্ছে। বিনা পয়সায় চিকিৎসা নিতে রোগীরা ইতস্তত বোধ করবেন তাই এই সামান্য ভিজিট। আমার অন্য দুই বোন এখন গর্ভবতী। সন্তান প্রসবের পর তারাও এ চেম্বারে বসবেন। আমার মতো অন্য দুই বোনও এক টাকায় সেবা দেবেন।

তার বাবা মীর মোজাম্মেল আলী বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিন্তু তিন মেয়ে চিকিৎসক হয়েছে। এখন আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিন মেয়ে এক টাকা ভিজিটে রোগী দেখতে রাজি হয়েছে। ইতোমধ্যে এক মেয়ে শুরুও করেছে।

রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ডা. সানাউল হক মিয়া বলেন, উদ্যোগটা মহৎ। ভালো কাজ করছে সে। খুবই প্রশংসা করার মতো ভালো কাজ এটি। তার সঙ্গে দেখা করে উৎসাহ দেব।

সর্বশেষ সংবাদ

No posts to display