ঢাকাThursday , 23 February 2023
  • অন্যান্য

রাজশাহী বিভাগে উদ্যোক্তার ক্রাইসিস আছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

February 23, 2023 7:05 pm । ১৯৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, রাজশাহীতে কিছু এগ্রি প্রোডাক, ফ্রুটস এবং এগ্রিকাচার ভেজিটেবল আইটেম এক্সপোর্ট’র ভালো উদ্যাক্তা তৈরি হচ্ছে। এই জায়গাতে আমরা উৎসহ প্রদান করি। তবে পুরো রাজশাহী বিভাগজুরে একটা ক্রাইসিস আছে উদ্যাক্তার। চ্যালেঞ্জিং কৃষি নির্ভর এই ইকোনমিতে শিল্প নির্ভর চ্যালেঞ্জগুলো নেওয়া মতো মানষিকতা হয়তো তৈরি হচ্ছে। হতে সময় লাগছে।  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্য রাজস্ব যাতে মানুষ দিতে পারে, সেই জায়গাটা তৈরি করা। রাজস্ব যদি দিতে না পরে, তাহলে তাদের থেকে নেব কিভাবে।ব্যবসার জন্য সার্পোট দেওয়া, ইন্ডাস্ট্রির জন্য সার্পোট দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা চেম্বারের সাথে প্রাক-বাজেট সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাজেট কোন বিভাগ টার্গেট করে করা হয় না। কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন জিনিসের সার্পোট দেয় হয়। সেখানে হয়তো রাজশাহী বেশি পায়, আর ঢাকা কম পাই। যেখানে যেই শিল্পের বেশি বিকাশ ঘটেছে, সেখানে সেই শিল্প বেশি সাপোর্ট পাই। তবে এগ্রিকালচার, পোল্ট্রি ও ফিরাজিরেরজ যে সার্পোটগুলো আছে সেগুলো আমরা একটুও কমাইনি। আগামীতেও সেই সাপোর্ট গুলো কমানো হবে না। কারণ এখানে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

রেশম শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মনে করি অতিতেও সহয়াতা দেওয়া হয়েছে। জানি না আর কোন সহয়তা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, যদি থাকে আরও দেব। এখানে সহযোগিতা দিতে তেমন কোন সমস্যা নাই। আমার রেভিনিউ কালেকশন কোন ঘাটতি হবে না। তবে সেই শিল্পটার বিকাশ হবে। তার মধ্যে একটি হলো রেশম শিল্প। রেশম শিল্পকে শুধুমাত্র কাস্টর্ম, ইনকামটেক্সের বা ভ্যাটের সহায়তার উপর দিয়ে টিকে থাকতে পারবে না। এর ভাগ্য কি শুধু মাত্র রেভিনিউ লোডের উপরে নির্ভরশীল? এখানে আরো অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। রেশম শিল্পের সেই চ্যালেঞ্জগুলো আপনাদের দেখতে হবে। রেশম শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এনবিআর এর তরফ থেকে টেক্স, ভ্যাটের সমর্থন দেওয়া হবে। এখানে আরো অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ব যেখানে প্রযুক্তি নির্ভর। হাই ইল্ডের প্রোডাক্টের উপরে নজর। সেখানে এই কটেজ ইন্ডাস্ট্রির ধীর গতির শিল্প টিকিয়ে রাখা একটা চ্যালেঞ্জ। এটাকে টিকিয়ে রাখা যায়- অর্গানিক ও প্রাকৃতিক স্লোগান দিয়ে। প্রাকৃতিক প্রোডাক্ট হিসেবে মার্কেটিং করতে হবে। মানুষের ভেতরে আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। তখন স্লোগানটা আসবে ‘ইহা অর্গানিক ইহা প্রাকৃতিক।’ সেই জায়গাটাই আসতে হবে। আমাদের তরফ থেকে সহায়তা থাকবে এই রেশম শিল্পের জন্য।

এনবিএর এর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, উদ্যাক্তা হলো মেনই বিষয়। উদ্যাক্তা শব্দের ভেতরে যে স্পিড থাকতে হবে সেটি আমাদের নাই। আমাদের উদ্যাক্তা তৈরি হয়; সরকার কখন কোন সার্পোট দেবে। এভাবে উদ্যাক্তা হয় না। উদ্যাক্তা শুধু যদি তাকিয়ে থাকে অন্যের উপরে। সার্পোটের উপরে ভরসা করে বসে থাকে, তাহলে তো উদ্যোক্তা হতে পারবে না। উদ্যোক্তা ভেতরে থাকরে স্পিড, চ্যালেঞ্জ, আমি এই জিনিসটা করবো, আমাকে করতে হবে। কেনো আমি পারবো না, কেন আমি অন্যের উপরে নির্ভরশীল হবো। উদ্যাক্তা নিজেকে হতে হয়, উদ্যাক্তাকে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে সামনে নিয়ে যেতে হয় না।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকুর সভাপতিত্ব রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা চেম্বারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Paris
Paris