ঢাকাWednesday , 19 April 2023
  • অন্যান্য

রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫, নেই বৃষ্টির সম্ভাবনা

April 19, 2023 5:34 pm । ১৩৪ জন

তীব্র তাপদাহে কাহিল হয়ে পড়েছে রাজশাহীর জনজীবন। একসপ্তাহ থেকে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পাদর উঠছে, কোনোভাবেই আর নিচে নামছে না। এমন অবস্থায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে পদ্মা পাড়ের রাজশাহী জনজীবন। রোদে কোথাও স্বস্তি নেই।

পথে-ঘাটে শ্রমজীবী মানুষদের দুর্ভোগ আগুনমুখো আবহাওয়া আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও নিদারুণ কষ্টে দিন পার করছে।

আজ বুধবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাঝখানে কেবল ১৮ এপ্রিল ছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ অতি তীব্র তাপপ্রবাহ টানা তিন দিন ধরে স্থায়ী হয়েছে জেলাটিতে।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, ভারী বর্ষণ ছাড়া আপাতত এ তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর দুই-এক দিনের মধ্যে রাজশাহীতে বৃষ্টিরও কোনো সম্ভাবনা নেই।

এর আগে গত ৪ এপ্রিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয় রাজশাহী অঞ্চলে। এরপর মাঝারি ও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। আজ তা অতি তীব্র হলো। বৃষ্টি না হলে এই তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোমবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রোববার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি, শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, বুধবার তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ১ ডিগ্রি এবং সোমবার ও মঙ্গলবার ছিল ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে রোদ আগুন হয়ে ঝরছে। বাতাস নেই, নড়াচড়া বন্ধ রয়েছে গাছের পাতার। পথঘাট উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না। অনেকেই ঈদের কেনাকাটা ইফতারের পর করছেন। তবে শ্রমজীবী মানুষকে ঠিকই বৈরী পরিবেশের ভেতর কাজ করতে হচ্ছে।

এদিকে দুঃসহ এ গরম থেকে পরিত্রাণ পেতে আজ ‘সালাতুল ইস্তিসকার’ আদায় করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর তেরখাদিয়ায় থাকা শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়াম মাঠে এ সালাতুল ইস্তিসকারের আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে তওবা করে সব পাপ থেকে পানাহ চাওয়া হয়। সেসঙ্গে বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।