ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ জানুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য

মাহির ১৭ দফা ইশতেহারে যা আছে

জানুয়ারি ৪, ২০২৪ ৭:৩১ অপরাহ্ণ । ৭২ জন

নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে ১৭ দফা ইশতেহার নিয়ে এলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।  এক ঝুড়ি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে ট্রাক প্রতীক এ প্রার্থী।

তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে নারীর ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবেন। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা বাজারে ১৭ দফা উন্নয়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন মাহি।

পাশাপাশি নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এই চিত্রনায়িকা।

তার ১৭ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে মাহিয়া মাহি বলেন, সকল শ্রেণি-পেশা, ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সকলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হবে; গোদাগাড়ী-তানোরে রাজশাহী অঞ্চলের মধ্যে প্রথম বৃহৎ আকারে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঘরে-ঘরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।

কৃষি ও কৃষকের বিষয়ে মাহি বলেন, গোদাগাড়ী-তানোর কৃষিপ্রধান একটি অঞ্চল। এই অঞ্চলের মানুষ প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেও সঠিক সংরক্ষণের অভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সবজি ও ফল সংরক্ষণে হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা এবং কৃষিপণ্য রপ্তানিমুখী করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এর সুবিধা প্রত্যেক কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করা চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি প্রতিশ্রুতির মধ্যে আরও রয়েছে, ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করা হবে; ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, গোদাগাড়ী-তানোরে শতভাগ খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা।

শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, গোদাগাড়ী-তানোরে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তার সংসদীয় এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও বৃহৎ আকারে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ; তরুণ ও নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ও প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক আউটসোর্সিং, আত্মকর্মসংস্থান, ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিপূর্বক বিভিন্ন পন্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথা জানিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে।

এছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়নপূর্বক প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ সকল যোগাযোগ অবকাঠামো সংস্কার, মেরামত ও নির্মাণের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মাহিয়া মাহি।

তিনি আরও বলেন, কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা ও খননের মাধ্যমে নৌ-রুট চালু করা, গোদাগাড়ী-তানোরের বিভিন্ন স্থানে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা ও শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা, মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ; গোদাগাড়ী-তানোরের অন্তর্গত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিসহ সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসক নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, টেকনোলজিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত পরিবর্তন; কৃষি সেচের সহজলভ্য করণের লক্ষ্যে গভীর নলকূপ স্থাপনসহ সেচ সমস্যা সমাধানে সেচ ব্যবস্থায় ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য বন্ধ করা হবে।

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাহি। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। এছাড়া রাজশাহী-১ আসনে আরও ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন।

ইশতেহার ঘোষণাকালে মাহি অভিযোগ করেন, এলাকায় ক্ষমতাশালীরা তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। প্রচারণায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে তার কর্মীদের। তবে শত বাধা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে লড়ে যাবেন।

এ সময় তিনি নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে কালো টাকা ছড়ানোর শঙ্কাও প্রকাশ করেন। বাংলানিউজ

Paris