১৪ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

এসএসসির খাতাগুলো পুনঃমূল্যায়য়ের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে দুই স্কুলের শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ৫ December ২০২২, ১১:৪৭ am | বিভাগ: রাজশাহী, রাজশাহী প্রতিদিন, সব খবর
এসএসসির খাতাগুলো পুনঃমূল্যায়য়ের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে দুই স্কুলের শিক্ষার্থী
বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


এসএসসির খাতাগুলো পুনঃমূল্যায়য়ের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটায় সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (পিএন) ও রাজশাহী কলেজিয়েটে স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়। সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবকদের দাবি তাদের সন্তানদের খাতাগুলো পুনঃমূল্যায় করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থী রিজুওয়ানা করিম বলেন, বাংলা এবং ইংরেজী বিষয়ের খাতার অবমূলায়ন। পরীকের মনগড় নম্বর প্রদান। টানা (৬০-৭০) জনকে গড়ে একই নম্বর প্রদান। যা অগ্রহনযোগ্য। অনেক ভালো পরীক্ষা দেবার পরও ভালো স্টুডেন্টদের আশারূপ ফলাফল আসেনি। অথচ অনেক শিক্ষার্থী পূর্ণ নম্বর উত্তর না করেও ফলাফল পূর্ণ নম্বর পেয়েছে যা ভালো শিক্ষার্থীদের জন্য অবিচার। একই কক্ষে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে ২৮0-১৮৪ করে দেয়া হয়েছে সেখানে।

অন্যানদের ২০০ পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।কিন্ত নম্বরের এতো পার্থক্য কাম্য নয়। অনেক যোগ্য শিক্ষার্থী খাতার এই অবদনায়নের জন্য আজ ভালো কলেজে ভর্তির শঙ্কায় আছি। যেখানে তারা বরাবর ভালো রেজল্ট করে এসেছে। যেখানে পূববর্তী বছরগুলোতে আমাদের স্কুল থেকে ৭০ জনের বেশি রাজশাহী কলেজ ভর্তির নম্বর পয়। সেখানে এবছর মাএ ২০ জন পাওয়াই মুশকিল। তাই আমরা আমাদের কাঙ্খিত বা প্রাপ্ত ফলাফল পায়নি। পিএন স্কুলের শিক্ষার্থী মোসা ইফফাত নাহিয়ান জানান, ‘এবছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে খাতা সমস্যা হয়েছে। যারা প্রথম ক্যাটাগরি শিক্ষার্থী তাদের। আমাদের পরীক্ষার কেন্দ্র বসেছিল নগরীর লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলটির এক নম্বর রুমে ৫০ জন শিক্ষার্থী বসেছিল। তারাই মূলত ভুক্তভোগি।

আমাদের পরীক্ষার খাতাগুলো যে বান্ডিলে পড়েছিল শুধু তাদের সমস্যা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার খাতা সাধারণ রুম অনুযায়ী একটি বান্ডিল করা হয়- এই শিক্ষার্থীর দাবি। তিনি বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলো ১০০ তে ১০০ পেয়েছি; সবগুলোতে। এটা কোন সমস্যা না। সমস্যা হলো- বাংলা-ইংরেজিতে। ক্লাস তৃতীয় শ্রেণি থেকে এই ৫০ জনের সবশ্রেণিতে টপ করা নর্মাল পাই। তার মানে তারা জেনুইনলী ভালো স্টুডেন্ট (শিক্ষার্থী)। এই সকল শিক্ষার্থী যখন ১৮০ থেকে ১৮৩, ১৮৪, ১৮৫ সর্বোচ্চ পেয়েছে। তারা পিএন ও কলেজিয়েট পড়ে; তারা ভালো শিক্ষার্থী। যারা নর্মাল শিক্ষার্থী তারা ২০০ তে পেয়েছে ১৯৫ থেকে ২০০।

বাংলা-ইংরেজি দুইটা মিলে রেজাল্ট দিয়েছে এক সাথে। সমস্যাটা যেটা হচ্ছে সেখানে আমাদেরকে ১৫ থেকে ৩০ নম্বর কমিয়ে দিয়েছে। কারো কারো ৪০ নম্বরও কমিয়ে দিয়েছে। আর ওরা আমাদের থেকে ৩০ থেকে ৪০ নম্বর বেশি পেয়েছে গেছে-এই চারটা বিষয় মিলে। এখন ওরা হচ্ছে রাজশাহীতে টপ পজিশেনে (স্থানে) চলে গেছে। আমরা চলে গেছি লো পজিশনে (নিচে) । এটা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক শরিফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে। তাবে নম্বর খারাপ। তাই তারা রাজশাহী কলেজ ছাড়া ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কিন্তু তাদের থেকে নর্মাল শিক্ষার্থীরাই ভালো ফলাফল করেছে। আমরা বিষয়টি শিক্ষাবোর্ডকে জানাতে এসেছি।

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মঞ্জু রহমান খান জানান,‘ শিক্ষার্থীদের দাবি কম নম্বর দেয়া হয়েছে। তাদের চেয়ে খারাপ শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করেছে। আমরা তাদের বলেছি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এবছর এসএসসিতে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। এর আগে গত সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন