১০ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

‘কীর্তিমান পদক’ বাবা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন: সদর আলীর ছেলে

‘কীর্তিমান পদক’ বাবা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন: সদর আলীর ছেলে
বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি রাজশাহী জেলায় স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বিজনেস আইকন ক্যাটাগরিতে সদর আলী (মরনোত্তর) ‘কীর্তিমান পদক’ প্রদান করা হয়েছে।

এক নজরে এই গুনীজন সদর আলী

রাজশাহী সিল্ক বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যের নাম। এই ঐতিহ্যকে পুঁজি করে মরহুম সদর আলী; সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর তৈরি সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেড রেশম তথা সিল্ক বস্ত্রের জন্য দেশে বিদেশে একটি সুপরিচিত নাম। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুনামের সাথে সারাদেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে গত প্রায় ৪০ বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।

সদর আলীর কর্মজীবন:

তাঁর কর্মজীবনের প্রথম থেকেই চিন্তা করেছিলেন যে তিনি রেশম শিল্প তথা সিল্ক বস্ত্র নিয়ে কাজ করবেন। এই চিন্তাধারা থেকেই উনিশশো আশির দশকের প্রথমদিকে ছোট্ট পরিসরে মাত্র এক-দুইজন কর্মী নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে রেশম শাড়ী প্রিন্টিংর কাজ শুরু করেন। প্রথম থেকেই তিনি তার রেশম শাড়ী নিয়ে ভালো সাড়া পান। ধীরে ধীরে কাস্টমারদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রেশম শাড়ী প্রিন্টিংর পাশাপাশি রেশম গুটি পোকার চাষ শুরু করেন। গুটি থেকে রেশম সুতা তৈরি এবং রেশম থান বুননের কাজ শুরু করেন।

ব্যবসার প্রসার ঘটায় তিনি ১৯৮৬ সালে বিসিক শিল্প নগরী রাজশাহীতে একটি প্লট কিনে তার কারখানাটি সেখানে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে তার কারাখানাটিতে হ্যান্ডলুম, জ্যাকার্ড লুমসহ আর বিভিন্ন উৎপাদন উপকরন স্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজাইন ও ধরনের রেশম বস্ত্র উৎপাদন করতে থাকেন।

কারখানা:

বর্তমানে সপুরা সিল্ক একটি ব্রান্ড। যা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মোট পাঁচটি নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে পন্য বিক্রয় করছে। সপুরা সিল্ক আজ প্রতিটি ঘরে ঘরে সমাদ্রিত। সপুরা সিল্ক মিলস এর উৎপাদন মুল কারাখানাটি ছাড়াও আরও অনেকগুলো সাব কারাখানায় ছড়িয়ে পড়ে। যেগুলো রাজশাহী ও রাজশাহীর বাইরের বিভিন্ন জেলা যেমন চাপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলে।

সরাসরি নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। অতীতে উন্নতমানের রেশম পন্যের জন্য রাজশাহী সিল্কের দেশে বিদেশ সুনাম ছিলো। কিন্তু কালের বিবর্তনে এক সময় তা মলিনহতে চলেছিল। সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেড গত ৪০ বছরে রাজশাহী সিল্কের সেই সুনাম শুধু ফিরিয়েই আনেনি, নিত্য নতুন ডিজাইন, প্যাটার্ণ আর রঙের সমারোহে নতুন নতুন পন্য বাজারে এনে কাস্টমারদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে।

একজন সদর আলী:

সপুরা সিল্কের প্রতিষ্ঠাতা সদর আলী ছিলেন একজন কাজের মানুষ। বাংলাদেশের রেশম শিল্পের বিস্তারে তাঁর অবদান সর্বজন স্বীকৃত। তার হাত ধরে এদেশের গ্রামাঞ্চলের প্রায় ৩০০০ দুস্থ্য মহিলা হাতের কাজসহ রেশম তথা কুটির শিল্পের জগতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে স্বচ্ছল জীবন যাপন করছে। ব্যক্তি জীবনে তিনি খুব সাধারন একটি জীবন যাপন করতেন। অতিদরিদ্র এক কৃষকের ঘরে তার জন্ম। মরহুম সদর আলী ১৯৫১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জন্ম গ্রহন করেন।

নিজ পরিশ্রমে কষ্ট করে সমাজে প্রতিষ্টিত হয়েও তিনি তার অতীত ভুলে যাননি। দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য তাঁর সহয়তার হাত সবসময় খোলা থাকতো। মরহুম সদর আলী ডায়াবেটিক এ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী হাসপাতাল রোগী কল্যাণপরিষদ, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, ফ্যামিলি প্লানিং এ্যাসোসিয়েশন, রোটারী ক্লাব, প্রতিবন্ধী আইনী সহায়তা কমিটি, প্রবীন হিতৈষী সংঘ এবং ক্যান্সার সেন্টার সহ আরো অনেক মানব কল্যাণ সংস্থার সংগে যুক্ত ছিলেন । শতাধিক মেধাবী গরীব ছাত্র/ছাত্রীর লেখাপড়ার দায়ভার গ্রহন সহ গরীব অসুস্থ রোগীর চিকিৎসার দায়ভার গ্রহন করেছেন সারা জীবনভর। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের সদস্য, জেলা রাজশাহী সিল্ক বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যের নাম ।

সমাজকল্যাণ পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এসএমইফাউন্ডেশনের জেনারেল বডির মেম্বার । এছাড়াও তিনি সাদামনের মানুষ নির্বাচিত হন । এছাড়া আরো অনেক সমাজ কল্যাণ মূলক কাজের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। তিনি বহু মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন । গরিব মানুষদের চিকিৎসা এবং ঔষধের ব্যবস্থাও তিনি করে গেছেন তার সাধ্যমত ।

সদর আলী ২০১৯ সালের ৫ জুন বুধবার রাজশাহীতে ইন্তেকাল করেন । তার নিজহাতে গড়ে তোলা সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেড তাঁর সন্তানদের হাত ধরে আজও রাজশাহীর আপামর জনগনকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে । রাজশাহীর একজন স্বনামধন্য বিজনেস আইকনকে কীর্তিমান পদক দ্বারা সম্মাননা প্রদান করতে পারায় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি গর্ব অনুভব করছে ।

গুনীজন মৃত সদর আলীর ছেলে সাজ্জাদ আলী গ্রীনসিটিকে জানায়, ‘ যে কোন পদক বা স্বীকৃতি কাজের উৎসহকে আরো বাড়িয়ে দেয়। তিনি নেই (সদর আলী) মারা গেছে। আমি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। আমাকে আরো উৎসহ যোগাবে এই সম্মাননা। বাবা বেঁচে থাকলে আরো খুশি হতেন তিনি।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন