ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন পবিত্র ইদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ রোববার (২৪ এপ্রিল) বিক্রি হবে ২৮ এপ্রিলের ট্রেনের টিকিট।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকামুখি ট্রেনে কোনো ধরনের স্ট্যান্ডিং টিকিট থাকছে না। তবে অন্য রুটে আসন সংখ্যা ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হবে। এর অতিরিক্ত হলে তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রির পাশাপাশি অফলাইনে স্টেশনে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হবে।
এবার ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি কাউন্টারে দেখাতে হচ্ছে। তবে নতুন টিকিটি বিক্রি কোম্পানিকে দায়িত্ব প্রদান ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেখাতে গিয়ে টিকিট বিক্রিতে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
ট্রেনে যাতায়াতে টিকিট কাটা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত দুর্ভোগ ও ভোগান্তির তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হতে হয় যাত্রীদের। উৎসব কেন্দ্রীক এই দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পায়। তবে এবারের ইদ যাত্রাকে দুর্ভোগহীন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আগে থেকেই মাঠে নেমেছেন খোদ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের।
প্রতিবছর ইদের আগে টিকিট নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় যাত্রীদের। আবার টিকিট কেটেও সিট পাননা অনেকেই। টিকিট কালোবাজারির কারণে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। আবার টিকিটবিহীন যাত্রীদের কারণে ভ্রমণও স্বাচ্ছন্দময় হয় না। তবে এবার ইদের আগেই পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম অসিম কুমার তালুকদার নিজেই টিটি’র দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি গিয়ে দুর্ভোগের কারণগুলো চিহ্নিত করে রেলওয়ে টিটিসহ কর্মচারীদের অবৈধ পন্থার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেয়া যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি নিয়ে টিকিট কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছেন যাত্রীরা। কাউন্টার থেকে এক ব্যক্তি চারজনের টিকিট কাটতে পারছেন। তবে এর জন্য প্রত্যেক যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দিতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ট্রেনে নারী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য একটি করে আলাদা কোচ সংযোজন করা হচ্ছে।
টিকেট প্রত্যাশী রিয়াজুল ইসলাম জানান, টিকিট পেয়েছি। তবে কষ্টে। কারণ সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল না। পরে বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছি। কালোবাজারি বন্ধে সিদ্ধান্ত ঠিক রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি দেখতে গিয়ে দেরি হচ্ছে টিকিট দিতে। তবে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ কতটা সম্ভব হবে সেটাও দেখার বিষয়।
আরেক টিকিট প্রত্যাশী সুমন জানান, ‘পঞ্চগড়ের টিকিট কাটার জন্য স্টেশনে এসেছি। লাইনে ভিড় দেখছি। আগে থেকেই শুনেছিলাম জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি আনতে হবে। তাই নিয়ে এসেছি। দেরি হোক, টিকিট পাওয়া নিয়ে কথা।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঢাকার পাঁচটি স্থান থেকে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কমলাপুর স্টেশনে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চল ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। রেলওয়ের সূচি অনুসারে, প্রথম দিন ২৭ এপ্রিল যাত্রার টিকিট বিক্রি হবে। সকাল আটটায় শুরু হয়ে কাউন্টারে বিকেল চারটা পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যাবে।
রাজশাহী রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার আবদুল করিম জানান, আমাদের এখানে ফিরতি টিকিটের চাপ বেশি থাকে। বর্তমানে ঢাকার টিকিটের চাপ কম থাকলেও, খুলনা, পার্বতীপুর, পঞ্চগড়, চিলাহাটি রুটে টিকিটের চাহিদা ভালো রয়েছে। ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হলে রাজশাহী স্টেশনে চাপ বাড়বে। আর ইতোমধ্যে রাজশাহী-ঢাকা রুটের ট্রেনে একটি করে শোভন কোচ যুক্ত করা হয়েছে। এসি কোচ যুক্ত করার কথা রয়েছে। এছাড়া অন্য এক্সপ্রেসগুলোতে একটি করে কোচ যুক্ত করার কথা রয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের (জিএম) মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, এবার টিকিট কালোবাজারির বিষয়টি নিয়ে যাত্রীরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। এমনটা হতে দেওয়া হবে না। মাঠে সাদা পোশাকে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ম্যাজিস্ট্রেটসহ র্যাবের সদস্যরা মাঠে কাজ করবেন। এমন কাউকে পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ইদকে সামনে রেখে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে না। তবে কোচ বাড়ানো হচ্ছে।
