তাপদাহে পুড়ছে পদ্মা পাড়ের রাজশাহী, সাথে লোডশেডিংয়ের খড়্গ!
রাজশাহীতে প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। আগে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়েই ঝড়-ঝঞ্ঝা লেগে থাকতো। কিন্তু এখন তা যেন সোনালি অতীত। তীব্র খরাতেই কাটছে এই দুই মাস।
গেল ৪-৫ দিন ধরে রাজশাহীর ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাইরে বের হলেই মনে হচ্ছে অগ্নিকুণ্ড। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ের খড়্গ! বিদ্যুৎ এখন আর যায় না; মাঝে মাঝে আসে!
একদিকে সীমাহীন গরম, আরেকদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং- দুইয়ে মিলে অসহনীয় করে তুলেছে পদ্মা পাড়ের রাজশাহীর মানুষের জীবনযাত্রা।
আজ মঙ্গলবার (৬জুন) বিকেল ৩টায় রাজশাহী সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে, গতকাল সোমবার (৫ জুন) তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গেল পাঁচ দিনের মধ্যে কেবল গত ৪ জুন রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চল্লিশ (৩৯ দশমিক ৮) ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এর আগে ৩ জুন রাজশাহীর তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২ জুন ছিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম জানান, সাধারণত দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ এখন রাজশাহী ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে বৃষ্টির কোনো সুখবর নেই। এর আগে সর্বশেষ গত ২৭ মে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত হয়। যা রেকর্ড করা হয় ৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার। এরপর আর বৃষ্টির দেখা মেলেনি এই শহরে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের ছয় বিভাগের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
