১০ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

দেশের প্রথম শহীদ মিনারের স্বীকৃতির দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ২২ February ২০২৩, ৩:১৪ pm | বিভাগ: রাজশাহী, রাজশাহী প্রতিদিন, শিক্ষা, শীর্ষ সংবাদ, সব খবর
দেশের প্রথম শহীদ মিনারের স্বীকৃতির দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন
বিজ্ঞাপন
রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেলে নির্মিত দেশের প্রথম শহীদ মিনারের স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন করে রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি (আরসিআরইউ)। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, একুশে ফেব্রুয়ারি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেলে। রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেলের গুটি কয়েক ছাত্র ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রয়ারী রাতে মুসলিম হোস্টেল গেটে দেশের প্রথম শহীদ মিনার, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের প্রথম শহীদ মিনার হয়েও আজও তা অবহেলায় জর্জরিত। এখনো স্বীকৃতি মিলেনি প্রথম নির্মিত শহীদ মিনারের। অনেকে জানেনই না এই শহীদ মিনার নির্মাণের ইতিহাস। ভাষা আন্দোলন এর ৭০ বছর পার হলেও দেশের প্রথম শহীদ মিনার এর ইতিহাস জানেনা অনেকেও।
বক্তারা আরো বলেন , আমরা সরকারের কাছে দৃঢ় দাবি জানাই তিনি যেনো দেশের প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার কে স্বীকৃতি প্রদান করেন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারীর ২১ তারিখে এই শহীদ মিনার নির্মিত হয়। মুসলিম হোস্টেলের কয়েকজন ছাত্র এই শহীদ মিনার তৈরি করেন। পাকিস্তান সরকার সেটাকে ভেঙ্গে ফেলে পরবর্তীতে নতুন করে ২০০৬ এবং ২০১৮ সালে তা সংস্কার করা হয়। যতোদিন না আমরা স্বীকৃতি পাচ্ছি ততোদিন আামরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। বিনিময়ে আমরা পরবর্তীতে রাজপথে আন্দোলনে নামবো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে দৃঢ় দাবি জানাই তিনি যেনো দেশের প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার কে স্বীকৃতি প্রদান করেন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারীর ২১ তারিখে এই শহীদ মিনার নির্মিত হয়। মুসলিম হোস্টেলের কয়েকজন ছাত্র এই শহীদ মিনার তৈরি করেন। পাকিস্তান সরকার সেটাকে ভেঙ্গে ফেলে পরবর্তীতে নতুন করে ২০০৬ এবং ২০১৮ সালে তা সংস্কার করা হয়।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের পর যখন ঢাকার রাজপথ রক্তাক্ত ছিলো ঠিক তখনি আমরা কয়েকজন রাজশাহীর মুসলিম ছাত্রাবাসে একটি শহীদ মিনার তৈরি করি। যেটা ছিলো দেশের প্রথম শহীদ মিনার। দুঃখের বিষয় আজো আমরা এই শহীদ মিনারের কোনো স্বীকৃতি পাইনি। অনেক বার আন্দোলন হলেও এর কোনো সমাধান আমরা পাইনি। এবার আমরা সরকারের নিকট জোর দার দাবি জানাচ্ছি, এই শহীদ মিনারের স্বীকৃতি দেওয়া হোক। নাহলে পরবর্তীতে আমরা বৃহৎ পরিসরে রাজপথে আন্দোলনে নেমে পরবো।
May be an image of 13 people
এ সময় রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল খালেক, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা: হবিবুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম, রাজশাহী টেলিভিশন এসোসিয়েশনের সভাপতি ও মোহনা ভিশনের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান মোঃ মেহেদী হাসান শ্যামল, ভাষা সৈনিক আব্দুল গাফফারের ছোট ভাই মন্টুসহ রাজশাহীর সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গ।
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেলে। রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেলের গুটি কয়েক ছাত্র ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রয়ারী রাতে মুসলিম হোস্টেল গেটে দেশের প্রথম শহীদ মিনার, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদ মিনার প্রথম আমাদের কলেজে মুসলিম ছাত্রাবাসে নির্মিত হয়। ভাষা আন্দোলনের সত্তর বছর পার হয়ে গেলেও আমরা এর স্বীকৃতি পাইনি। এই শহীদ মিনার তৈরির পরের কিছু ছবি আমরা সংরক্ষণ করে রেখেছি। আমরা সরকারের নিকট এই শহীদ মিনারের স্বীকৃতির জন্য তীব্র দাবি জানাচ্ছি।
রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের মাতৃভাষা রক্ষায় সেদিন রাজপথে শহীদ হন সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ আরও অনেকে। এই আন্দোলনে রাজশাহীর সর্বস্তরের পেশাজীবী ছাত্র-জনতার গৌরবময় ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বায়ান্নের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজশাহীতেও ভাষার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে বহু ছাত্র হতাহত হন। সেই খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী কলেজে জমায়েত হন ছাত্ররা।
রাজশাহী মেডিকেল স্কুলের সিনিয়র ছাত্র এসএম গাফ্ফারের সভাপতিত্বে ওই জমায়েতে রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন এগিয়ে নিতে গঠন করা হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সেখানেই শহীদ ছাত্রদের স্মরণে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।
সেদিনই ইট ও কাদামাটি দিয়ে ওই রাতেই কলেজের মুসলিম হোস্টেলের এফ ব্লকের সামনে শহীদ মিনার তৈরি করেন ছাত্ররা। কিন্তু পরদিন সকালে পুলিশ এসে শহীদ মিনারটি গুড়িয়ে দেয়। আরেকটি বিষয় আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি যে টি দেশের প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে সেটি কিন্তু তৈরি হয়েছিল ১৯৯২ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি কিন্তু রাজশাহী কলেজে যদি তৈরি হয়েছে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। তাই আমরা বলতে পারি, ভাষা শহীদদের স্মরণে দেশের প্রথম নির্মিত শহীদ মিনারটি হচ্ছে রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস অবস্থিত এই শহীদ মিনারটি। দুটো স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করছে।
পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন