১০ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

রাজশাহীর নিউ মার্কেটে ইদের বাজার সরগরম

প্রকাশিত: ২৮ April ২০২২, ১২:০৫ pm | বিভাগ: রাজশাহী, রাজশাহী প্রতিদিন, সব খবর
রাজশাহীর নিউ মার্কেটে ইদের বাজার সরগরম
বিজ্ঞাপন

গ্রীনসিটি ডেস্ক:

নেই করোনার ভয়, নেই দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ। বেচাকেনায় মুখরিত নগরীর নিউ মার্কেট। সামনে কয়েকদিন পরই ইদ। ইদের আগমনে খুশির জোয়ার বইছে চারিদিকে। ইদের আনন্দ বাড়াতে, কেনাবেচার মধ্যে দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

নগরীর আরডিএ মার্কেট, সাহেব বাজার, গণক পাড়া মোড়সহ বিভিন্ন দোকানে বেচাকেনা চলছে হরদম। বিক্রি হচ্ছে ইফতার আইটেম, ছোট ও বড়দের পোশাক, আতর, টুপি, প্রসাধনী, জুতা, চশমা ইত্যাদি।

নিউমার্কেটের দোকানগুলোতে বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত বেচাকেনায় মুখর পরিবেশ দেখা গেছে। করোনার বালাই নাই। গত দুই বছর ব্যবসা বন্ধ ছিল। ইদ অনেকটা কষ্টে কেটেছে। এবছর বেচাবিক্রি ভালো হচ্ছে। বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েরই ইদ আনন্দে কাটবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা ।

পাঞ্জাবির দোকানে দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না বিসমিল্লাহ কালেকশনের বিক্রেতারা। তারপরও ২৫ জন ক্রেতার দেখা মেলে দোকানটিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসমিল্লাহ কালেকশন থেকে এক কর্মী জানান, রোজার প্রতিটি দিন কমবেশি বেচাবিক্রি হয়েছে। তবে আজ গরমে ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই।

বিসমিল্লাহ কালেকশনে ছোট ও বড়দের ৩৮ থেকে ৫০ সাইজের পাঞ্জাবি আছে। ছোটদের পাঞ্জাবি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় এবং বড়দের পাঞ্জাবি ৯৫০ থেকে ৭ হাজার টাকায়। পাঞ্জাবির পসরায় বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। যেমন পার্টি পাঞ্জাবি, সুলতান পাঞ্জাবি, কারি পাঞ্জাবি, পেন্সিল পাঞ্জাবি, লোবাবা পাঞ্জাবি, নকসী পাঞ্জাবি, ধানসিঁড়ি পাঞ্জাবি, কটি পাঞ্জাবি ও কাবলি পাঞ্জাবি। পায়জামা বিক্রি হচ্ছে আলাদা করে। বাজারে এসেছে অনেক নামের পায়জামা যেমন সিট, বালা, ন্যাড়ো, টাওজার, কালো, চুড়িদার, ইন্ডিয়ান ও কাবলি। ছোটদের পায়জামা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বড়দের পায়জামা ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

দৃষ্টি অপটিকস এর প্রোপাইটর ইমরানের সাথে কথা হয়, চশমার ব্যবসা সম্পর্কে । তিনি জানান, ব্যবসা বলতে প্রতিদিন ২০ এর বেশি চশমা বিক্রি হচ্ছে। চশমার মধ্যে ব্লু কার্ড, সাদা এনসি চশমা বেশি বিক্রি হচ্ছে। বাইরের আলো চোখে প্রবেশ করে না। তবে পরিষ্কার দখো মেলে ব্লু কার্ড চশমার মাধ্যমে। ব্লু কার্ড চশমার দাম ৫০০ টাকা।

নিউ মার্কেটে প্রসাধনীর দু- তিনটি দোকান। এর মধ্যে নেহার এক্সক্লুসিভ ও সুমন এন্ড ব্রাদার্সে তরুনীদের পন্য কেনার ভিড় দেখা গেছে। সুমাইয়া ইসলাম এসেছেন নেইল পলিশ কিনতে। ইদের কেনাকাটা সম্পর্কে বলেন, কালার কসমেটিক্স ও জুয়েলারি ছাড়া নারী অসম্পূর্ণ। সারা বছর যাই কেনা হোক না কেন, ইদে কেনাকাটা না করলেই চলেই না। এই দোকানে নারীদের সব প্রয়োজনীয় কসমেটিক্স ও জুয়েলারি কম দামে পাওয়া যায়। ফেসপ্যাক ও নেইল পলিশ কিনলাম।

গত বছর নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাতে দেখা যেত জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। উন্নয়নের লক্ষ্যে এবছর নিউ মার্কেটের ফুটপাতগুলোতে তেমন দোকান নেই বললেই চলে। তারপরও মার্কেটটির ভেতরে জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক কম দেখা গেছে।। তবে, ক্লাসিক সুজ নামের জুতার দোকানে কাস্টমারদের জুতা কিনতে দেখা গেছে।

মেয়েদের থ্রি পিস, টপস, লেহাঙ্গা, লেডিস প্যান্ট এবং ছেলেদের পাঞ্জাবী, গেঞ্জি, ফতুয়া বিক্রি হতে দখো গেছে বিশাল সেন্টারে। বিশাল সেন্টারের প্রোপাইটর সেলিম রেজা ওরফে দারা বলেন , রমজানের ১৫ দিন ভালো ব্যবসা হয়নি। মালামাল যথেষ্ট স্টকে আছে। চাওয়া অনুযায়ী শুধু ক্রেতা নেই। তারপরে স্বাভাবিক বেচাবিক্রি হচ্ছে। দুই বছর চোখে কিছু দেখিনি। এবছর ব্যবসা করছি। অনেকটা নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। স্বাভাবিক ব্যবসা হলেই চলবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন