রাজশাহী সিটি নির্বাচন: ভোট বর্জন করলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচন বর্জন করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুরশিদ আলম ফারুকী। সোমবার বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়রপ্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার পর দলটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ সোমবার রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী মুরশিদ আলম ফারুকী।
এসময় তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছিলেন তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিবেন। আর আমরাও কমিশন কেমন? সেটা দেখার জন্য এই সরকারের আমলে নির্বাচনে আসছিলাম। বরিশাল নির্বাচনে যেহুতু আমরা দেখতে পেয়েছি প্রার্থীর উপরে হামলা করেছে, রক্তাক্ত করেছে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের কেন্দ্রীয় আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই বরিশাল ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে।
সিলেট ও রাজশাহীর মেয়র প্রার্থী এ নির্বাচন বয়কট করেছেন। কারন এ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোনটাতেই নাই। রাজশাহীতে বরাবরই অভিযোগ দিয়ে আসছিলাম, যে আমাদের ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হয়েছে। কে বা কারা? কিন্তু আমারা যখন অভিযোগ দিয়েছিলাম উনারা আশ্বাস দিয়েছিলেন দেখবেন। এরপর আরো কিছু অভিযোগ দিয়েছিলাম তার ফলশ্রুতি আমরা পাই নাই।
আরো পড়ুন ….বরিশাল-খুলনা সিটি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করল ইসলামী আন্দোলন
মেয়রপ্রার্থী মুরশিদ আলম ফারুকী সমালোচনা আরো বলেন, বরিশাল সিটি নির্বাচনে ইভিএম মেশিনে ভূত-পেত্নী দেখা গেছে। একই ঘটনা ঘটেছে খুলনায়ও। যদিও সিইসি বলেছিলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, কিন্তু আমরা দেখেছি খুলনা ও বরিশাল নির্বাচনে হাতপাখার ওপর যখন টাচ করা করা হচ্ছে তখন ভোট যাচ্ছে নৌকাতে। আজ প্রকাশ পেয়েছে ইভিএমের ওপর ভূত-পেত্নী আছে। তাই এমন ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
অতএব কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী আমি (মুরশিদ আলম) রাজশাহীতে হাতপাখা প্রতিকে যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো তা বয়কট করলাম। আগামী ২১ তারিখ নির্বাচনে আমরা যাবো না।
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, বরিশালে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি মহানগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে, বরিশাল শহরে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল করিমের ওপর হামলাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পাশাপাশি ২১ জুন রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
দুই সিটিতে ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় বরিশালের চাঁদমারি মাদ্রাসা সড়ক এলাকার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। সেখানে দলটির আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম দুই সিটি ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান এবং অপর দুটির ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
রেজাউল করীম বলেন, ‘নির্বাচনের বুথগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে তারা বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম করেছে। মারাত্মক অনিয়মের প্রতিবাদে আমরা বরিশালের নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। সঙ্গে খুলনার ফলাফলও আমরা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা করছি। আর সিলেট ও রাজশাহীতে নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী রয়েছে, সেই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছি। যেহেতু সুন্দর পরিবেশ নেই, তাই তারা নির্বাচন করবে না।’
নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দেন চরমোনাই পীর। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেছেন তিনি।
