রাণীনগরে পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং, জনজীবন বিপর্যস্ত
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় একদিকে তাপদাহে তীব্র গরম, অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরে গ্রাহকরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৭-১৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ পেলেও গ্রাম অঞ্চলে দিন-রাতে অর্ধেক সময় ধরে পাচ্ছে না বিদ্যুৎ।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরদিন শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত শহরে ৪-৫ বার লোডশেডিং হলেও গ্রাম অঞ্চলে ঘন ঘন ৮-১০ বার লোডশেডিং করা হয়েছে। ফলে কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে বিশ্রাম বা শান্তি মত ঘুমাতেও পাড়ছে না মানুষ। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য ব্যক্তি এবং হাসপাতালে ভর্তিরত ব্যক্তিদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানায়, নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ রাণীনগর জোনাল অফিসের আওতায় উপজেলা জুড়ে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৬২ হাজার গ্রাহক রয়েছে। উপজেলা সদরে ও আবাদপুকুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের দুুইটি সব-স্টেশন। গ্রহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুইটি সাব-স্টেশনে ১০টি ফিডারে বিভক্ত করা হয়েছে। আর এসব ফিডারের মাধ্যমে সকল গ্রহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে রাণীনগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরে কম লোডশেডিং করা হলেও গ্রামঞ্চলে ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় থাকছে না বিদ্যুৎ। প্রচন্ড তাপদাহ, ভেপসা গরম আবার সেই সাথে পল্লী বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং। ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পল্লী বিদ্যুতের হাজার হাজার গ্রাহক। আর ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন চালকলে চাল উৎপাদন ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।
উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক বোদলা গ্রামের সাইদুর রহমান, বেলঘড়িয়া গ্রামের রহিদুল রহমান, নারায়নপাড়া গ্রামের ময়নুল ইসলাম, বেতগাড়ীর বেলাল ও মিরাটের আজিজুল হকসহ আরো কয়েকজন গ্রাহক বলেন, গ্রামঞ্চলে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে আসার কোন সময় থাকে না। এক-দেড় ঘন্টা পর আসলেও কিছু সময় পর আবার লোডশেডিং করা হচ্ছে। তারা বলছেন, দিনের বেলা লোডশেডিং কম হলেও রাতে বেলা ঘন ঘন লোডশেডিং করা হয়। এতে দিন-রাতে প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ফলে চড়ম ভোগান্তি পহাতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক বেতগাড়ীর মেসার্স মন্ডল চালকলের মালিক নুরে আলম সিদ্দিক পল্টন বলেন, প্রতিদিন ১৮ জন শ্রমিক মিলে চাল উৎপাদনের জন্য কাজ করে থাকেন। আর বিশেষ প্রয়োজনে রাতেও কাজ করেন তারা। বিদ্যুতের লোডশের্ডিংয়ের ফলে ঠিকমত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় চড়মভাবে ব্যাহত হচ্ছে মিলে চাল উৎপাদন।
এ ব্যাপারে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর রাণীনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম আকিয়াব হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ মেগাওয়াট, পেয়েছি সাড়ে ৯ মেগাওয়াট। পরদিন শুক্রবার দিনে ১০ মেগাওয়াট চাহিদা, কিন্তু ৭ মেগাওয়াট পাওয়া গেছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
