১৪ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

রাজশাহীতে শীতজনিত রোগী বাড়ছে হাসপাতালে

প্রকাশিত: ১০ December ২০২২, ১১:৫৫ am | বিভাগ: রাজশাহী, রাজশাহী প্রতিদিন, শীর্ষ সংবাদ, সব খবর
রাজশাহীতে শীতজনিত রোগী বাড়ছে হাসপাতালে
বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেড়েছে শীত। বেড়েছে শীতজনিত রোগীও। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতালে গেল কয়েক দিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ রোগী নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বহির্বিভাগেরও এই লক্ষণের রোগী বেড়েছে। সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন অনেকেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- শীতের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে হাসপাতালটির বহির্বিভাগের চেয়ে ওয়ার্ডে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আশার মধ্যে বেশি শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা। এই রোগীগুলো হাপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগের গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ শিশু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের বেশির ভাগেরই নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছে। এছাড়া ওয়ার্ডগুলোতে অ্যাডমিশন দিন (ভর্তির দিন) ৭৫ থেকে ৮০টি শিশু ভর্তি হচ্ছে। তাদের মধ্যে শীতজনিত সমস্যাই বেশি।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে রোগীতে ঠাঁসা। ওয়ার্ডের ভেতরে বেড, মেঝেতে শিশু রোগীতে ভরে গেছে। বারান্দায় রয়েছে অনেক রোগি। সেখানেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এই ওয়ার্ডে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা থেকে চার মাসের শিশু রাহাত ইসলামকে শ্বাসকষ্টের কারণে স্বজনরা ভর্তি করেছেন। তবে ভর্তির তিনদিন হলেও মেলেনি বেড। ওয়ার্ডের ভেতরে রোগীতে ভর্তি থাকায় ঢাই মিলেছে বারান্দায়। শিশুটির মা তাহমিনা জানায়, ‘শিশুর হার্ডের সমস্যা রয়েছে। এছাড়া রয়েছে শ্বাসকষ্টও। চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিছুটা কমেছে। তবে পুরোপুরি ভালো হয়নি।’
হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছে। তারমধ্যে বেশি ডায়রিয়া রোগী।

তারপরে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া, অ্যাজমা রোগী রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ওয়ার্ডে। তবে ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের বাধ্য হয়ে বারান্দায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। তারপরেও আমরা শিশুদের পরিবারকে সতর্কভাবে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগীদের সাধারণত হাসপাতালের ১০, ২৪, ২৬, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। এই ওয়ার্ডগুলো শিশু রোগীদের জন্য নির্ধারিত। এছাড়া বড়দের মেডিসিন ওয়ার্ডের মধ্যে শীতজনিত লক্ষণ নিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে- ১৩ থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। এছাড়া ৩৬ থেকে ৩৮ এবং ৪২ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে। এইসব ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গেল ২৪ ঘণ্টার হিসেবে রামেক হাসপাতালে গত ৬ ডিসেম্বর নিউমোনিয়া নিয়ে ২০ জন শিশু, ডায়রিয়া নিয়ে ১৮ জন শিশু। এছাড়া বিভিন্ন সমস্য নিয়ে ৪৩ জন শিশু ভর্তি হয়। তার দুইদিন আগে ৪ ডিসেম্বর নিউমোনিয়া নিয়ে ১০ জন শিশু, ডায়রিয়া নিয়ে ১৩ জন শিশু। এছাড়া বিভিন্ন সমস্য নিয়ে ২৮ জন শিশু ভর্তি হয়। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর নিউমোনিয়া নিয়ে ১৪ জন শিশু, ডায়রিয়া নিয়ে ১৯ জন শিশু। এছাড়া বিভিন্ন সমস্য নিয়ে ৩৪ জন শিশু ভর্তি হয়।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে পেটে ব্যথার কাণে ১৪ মাসের শিশু মারিয়ামকে ভর্তি করা হয় ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। তাকে ভর্তির পর থেকে বারান্দায় স্বজনরা রয়েছেন মারিয়ামকে নিয়ে। মারিয়ামের বাবা মিলন জানান, ‘তিনদিন আগে পেটের ব্যথার কারণে মেয়েকে ভর্তি করেছিলাম। এখন ভালো আছে। আগামিকাল ছুটি দিতে পারে।’

মাবিয়া নামের এক নারী জানান, বুধবার শিশুকে ভর্তি করেছি। তার ডায়েরিয়া হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। ডায়েরিয়া কমেছে। তবে পুরোপুরি ভালো হয়নি। শীতের কারণে উষ্ণ জায়গা রাখতে বরেছে। তবে সম্ভব হচ্ছেনা। তার পরেও কাঁথা-কম্বল দিয়ে ঢেকে রেখেছি।

অন্যদিকে, রামেক হাসপাতালে চারটি শিশু ওয়ার্ড। সময়ের সাথে সাথে অন্য ওয়ার্ডগুলো বাড়লে বাড়েনি শিশু ওয়ার্ড। ফলে নির্ধারিত জনবল নিয়ে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক রোগিদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

রামেকের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসক মো. মোফাক খাইরুল জানায়, শীতজনিত রোগী বেড়েছে। অ্যাডমিন দিনে কমপক্ষে ৮০ জন শিশু ভর্তি হয়। তাদের বেশির ভাগই নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া, শ্বাসকষ্টের রোগী। তাদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বেশি। আমরা শিশুদের পরিবারকে পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেনো শিশুদের এই শীতের সময়ে শুষ্ক জায়গায় রাখতে। কোনোভাবেই ঠান্ডা লাগানো যাবে না। শিশুদের মায়ের দুধের বিকল্প নেই।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনালের শামিম ইয়াজদানী জানান, শীতজনিত কারণে আক্রান্তের হারটা বেড়েছে। চিকিৎসা চলছে ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন