সাপের ভয়ে কেউ ঢোকে না স্টেডিয়ামে
অযত্ন-অবহেলায় দেশের অনেক মাঠই এখন খেলার অনুপযোগী। কোনোটিতে খেলাই হয়নি কখনো। পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে এখন একরকম পরিত্যক্ত খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। ঢাকার এত কাছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর এই হাল হলে জেলা শহর বা মফস্বলের স্টেডিয়ামগুলোর কী অবস্থা? এমনই ছয়টি স্টেডিয়াম নিয়ে এই ধারাবাহিক লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম। আজ দ্বিতীয় পর্বে থাকছে নোয়াখালীর সেনবাগের বীরবিক্রম শহীদ তারিক উল্যা স্টেডিয়াম।
গেট খুলে ভেতরে ঢুঁ মারতে যত দূর চোখ গেল শুধু ঘাস আর ঘাস। মাছ ধরার ভেজা জালও শুকাতে দিয়েছিলেন একজন। স্টেডিয়ামের তত্ত্বাবধায়ক দ্বীন মোহাম্মদ সতর্ক করলেন, ‘একটু সাবধানে পা ফেলবেন। সাপের অনেক উৎপাত এখানে। ভয়ে আসতে চায় না কেউ। উদ্বোধনের পর কেবল দুটি টুর্নামেন্ট হয়েছে এখানে। ২০১৩ সাল থেকে স্টেডিয়ামটা একপ্রকার পরিত্যক্ত।’
ক্ষোভের কারণও আছে সাইফুল ইসলামের। স্টেডিয়াম দেখভালের জন্য যে লোকবল নিয়োগ দেওয়া দরকার সেটা দেয়নি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ বিল, জমি উন্নয়ন করও দেয় না সংস্থাটি। স্টেডিয়ামের হিসাব ঘেঁটে দেখা গেল বিদ্যুতের বিল বকেয়া ৭০ হাজার টাকা। ভূমি কার্যালয়ে বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা করে যে উন্নয়ন কর দিতে হয়, সেটার বকেয়া দেড় লাখ টাকা। খেলা বন্ধ হলেও বিল তো আর থেমে নেই। সেনবাগ ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের উদ্যোগে নামমাত্র বেতন দেওয়া হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক দ্বীন মোহাম্মদকে। পরিমাণে কম হলেও পরিশোধ করা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল ও উন্নয়ন কর।
সেনবাগ স্টেডিয়ামের এই হাল নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানালেন, ‘এই স্টেডিয়াম আমার অধীনে নয়। তার পরও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হিসেবে আমি ব্যাপারটা দেখব। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদককে আমি খোঁজ নিতে বলছি। স্টেডিয়ামটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে। অবশ্যই সেখানে নিয়মিত খেলাধুলা হওয়া উচিত।’
