১০ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

৮ দিনে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর

প্রকাশিত: ১৩ May ২০২২, ৮:০১ pm | বিভাগ: জাতীয়, শীর্ষ সংবাদ, সব খবর
৮ দিনে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর
বিজ্ঞাপন

গ্রীনসিটি ডেস্ক:

গত ৮দিনে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন হলের ছাদ থেকে পড়ে, একজন আত্মহত্যা ও অন্যজন বিষপান করার পর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জানা যায়, গত ১০ মে চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া তাবাসসুম আত্মহত্যা করেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের বিষমপুর গ্রামে। নিহত শিক্ষার্থী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মাহবুব রশিদ ফারুকের মেয়ে। এছাড়া এদিন বিকালে বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র অমিত কুমার বিশ্বাস মারা যান। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ জানান, বৃষ্টিতে ভেজার সময় ছাদ থেকে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন অমিত কুমার বিশ্বাস। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। 

নোয়াখালীর চাটখিলে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুষার (২৫) নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। গত ৯ মে তুষার ও তার বন্ধু হাসান চারটখিল থেকে লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া নামক স্থানে যাওয়ার পথে চাটখিলের সোবহানপুর এলাকায় আসলে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহন হন। আর বন্ধু হাসান গুরুতর আহত হন।

এছাড়া গত ৮ মে রাত সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী অঙ্কন বিশ্বাস। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সে বিষপান করে বলে জানা যায়। এরপর ১৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায় অঙ্কন। এ মৃত্যু নিয়ে তার সহপাঠীদের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হওয়ায় অঙ্কনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছে জাবি শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করে এ দাবি জানান তারা। 

এছাড়া ৭ মে নাটোরের বড়াইগ্রামে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেল ও গাড়ির সংঘর্ষে মারা যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার কনস্টেবল জানান, নিহত শামীম কর্মস্থল পাবনার উদ্দেশ্য মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় বনপাড়া হাইওয়েতে গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে রাস্তায় পড়ে যায়। এ সময় অন্য আরেকটি গাড়ি তার দুই পায়ের উপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। শামীমের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার শিবপুর গ্রামে। পড়াশোনা শেষ করে শামীম ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। 

এর আগে গত ৪ মে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ হারান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম। মোটরসাইকেলে মধুপুর যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে হঠাৎ ব্রেক করেন সাদিক। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে পাশে থাকা পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাদিকুল। 

এর আগে গত ১ এপ্রিল রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভারে গাড়ির চাপায় বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা মমতাজ মিম নিহত হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একজন পথচারী মিমকে রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৮ এপ্রিল শুক্রবার মেস থেকে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিজানুর রহমান পলাশ নামে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া ২৩ মার্চ রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আকাশ রায় ভবনে ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। যদিও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

১ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী হিমেল মাহবুব। 

প্রত্যক্ষদশীরা জানান, ঘটনার দিন রাতে হিমেল ও তার বন্ধু রায়হান মোটরসাইকেলযোগে ক্যাম্পাস থেকে হলে ফিরছিলেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা নির্মাণ সামগ্রীবাহী একটি ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান হিমেল। আর রায়হানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

যুগান্তর

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন