ঢাকামঙ্গলবার , ১১ অক্টোবর ২০২২
  • অন্যান্য

কঠোর পরিশ্রম ও সাধ্যমতো সঞ্চয়ের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর ১১, ২০২২ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ । ১৩৪ জন

জনগণকে অপচয় কমানো এবং সঞ্চয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা কোনও অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়াবো না। বরং আমরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি, গ্যাস ইত্যাদি ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী এবং সচেতন হবো। তিনি দেশের প্রতিটি পরিবারকে তাদের সাধ্যমতো সঞ্চয় করার অনুরোধ জানান। এটি সরকারের জন্যও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার প্রারম্ভিক বক্তব্যে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনও কিছুই অপ্রয়োজনে ব্যবহার করতে যাবে না। আমরা যা প্রয়োজন তা ব্যবহার করবো। এর বেশি নয়। আমাদের অপ্রয়োজনীয় কোনও কিছু ব্যবহারের সুযোগ নেই। কারণ, আমি বিশ্বনেতা ও সংস্থার প্রধানদের মধ্যে উদ্বেগ দেখেছি। তাই আমাদের যথেষ্ট সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বজায় রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সরকার তা-ই করবে, যতদিন জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকবে।

তিনি বলেন, জনগণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যতদিন মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকবে ততদিন আমাদের কোনও টেনশন নেই। আমাদের জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে এবং তাদের কাজে লাগাতে হবে, যেভাবে আমরা করোনাভাইরাস মোকাবিলার সময় করেছিলাম।

খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে

যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশবাসীকে আরও খাদ্য উৎপাদনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় আগামী বছরে একটি গভীর সংকটের আশঙ্কা করছে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। এটি এখন আমাদের জন্য অনিবার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সফরের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়। যেখানে সবাই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ২০২৩ সালে একটি গুরুতর দুর্ভিক্ষ হতে পারে। তখন অর্থনৈতিক মন্দা আরও গভীর হবে এবং খাদ্য সংকট দেখা দেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং, আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের একটা সুবিধা আছে। আমাদের জমি অনেক উর্বর। যেখানে বীজ বপন করা হয় সেখানেই কিছু উৎপন্ন হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এটা বলতেন। বঙ্গবন্ধুর এই বাণী অনুসরণ করে ব্যাপকভাবে খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনায় সময় নষ্ট করা যাবে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা করে মূল্যবান সময়ক্ষেপণ না করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই এই বিষয়ে আলোচনা করে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো মূল্যস্ফীতির বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহ দেখালেও তাদের নিজেদের দেশে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করে না। আমাদেরও বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করার দরকার নেই। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম জনসাধারণের নাগালে রাখার চেষ্টা করা উচিত। এর জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তা করবো।

প্রকল্প নেওয়ার আগে সাফল্যের কথা ভাবতে হবে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রকল্প নেওয়ার আগে সবাইকে দেশের জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ এবং সেই প্রকল্প থেকে কী সাফল্য আসবে সে কথা ভাবতে হবে। ফান্ড পাওয়া গেলেই অপ্রয়োজনে কোনও প্রকল্পে ঝাঁপিয়ে পড়ার দরকার নেই। যেকোনও প্রজেক্ট আমাদের খুব সাবধানে যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে, যাতে তা থেকে আমরা কিছু রিটার্ন পেতে পারি, যা দেশের জন্য উপকারী হবে। আমরা সেই ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করবো। এমন কোনও প্রকল্প নেওয়ার প্রয়োজন নেই, যা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না।

তিনি বলেন, আমি সেরকম কোনও প্রজেক্ট নিইনি। আমরা এ ব্যাপারে সবসময় সতর্ক ছিলাম। ভবিষ্যতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের প্রতি সরকারের সবসময় দায়িত্ব রয়েছে। আমরা তা অনুধাবন করতে পারি এবং এই লক্ষ্যে কাজ করি।

প্রধানমন্ত্রী যত দ্রুত সম্ভব চলমান প্রকল্পগুলো শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প সম্পন্ন করলে আমরা যেসব প্রকল্পের সুফল পেতে পারবো এবং দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, আমাদের সেসব প্রকল্প বেছে নিতে হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি যেসব প্রকল্প কিছুটা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে সেগুলো বাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: বাসস ও বাংলাট্রিবিউন