ঢাকাশনিবার , ১ এপ্রিল ২০২৩
  • অন্যান্য

যুবলীগ নেতা লায়েক হত্যা: সংসদ সদস্যের ভাতিজাসহ ১৮ জনের নামে মামলা

এপ্রিল ১, ২০২৩ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ । ১২৭ জন

দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সুনামগঞ্জের ছাতকে উপজেলা যুবলীগ নেতা লায়েক মিয়া হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিকের ভাতিজাসহ ১৮ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

হত্যার ঘটনার চারদিন পর শুক্রবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে নয়টায় নিহতের ভাই আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ছাতক থানায় এ মামলাটি করেন। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খান মাঈনুল জাকির।

মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাতিজা তানভীর রহমান, উপজেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুছ শিবলু, ছাতক পৌরসভার প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী (লায়েক মিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী), যুবলীগ নেতা সাদমান মাহমুদ সানি, সাবেক জামায়াত নেতা আলা উদ্দিন, আবুল খয়ের টুটুল, তাজ উদ্দিন, মিজান মিয়া, আব্দুল মতিন, শামসুল ইসলাম, মিলন মিয়া, এশাদ আলী, সায়মন, মহসিন ও সৌরভকে আসামি করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, লায়েক হত্যার ঘটনায় তার ভাইয়ের দায়ের করা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে (মামলা নম্বর ২৫)। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাতে গনেশপুর খেয়াঘাটে একটির চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন উপজেলা যুবলীগ নেতা ও ছাতক পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মন্ডলীভোগ এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে লায়েক মিয়া। এ সময় লায়েক মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে ছাতক পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ ছাতক উপজেলার আবদুল কদ্দুছ শিপলুসহ তার কয়েকজন সহযোগিরা। ঘটনার পরপর হত্যাকারীরা থানার সামনে দিয়ে দ্রুত সুরমা নদী পাড় হয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় উপস্থিত লোকজন খুনিদেরকে ধাওয়া করলেও আটক করতে পারেনি।

স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত লায়েককে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থার অবনতি দেখে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে ওই হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িত এরশাদ, তাজউদ্দিনসহ তিন জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বুধবার (২৯ মার্চ) বিকেলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত লায়েক মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১০টায় ছাতক উপজেলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে মরহুমের জানাজার নামাজ শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ছাতক পৌরশহরের মন্ডলীভোগ এলাকার লাল মসজিদ কমিটি নিয়ে লায়েক মিয়া ও একই গ্রামে তাজ উদ্দিনের ছেলে আবদুল কদ্দুছ শিপলুর পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। – বাংলানিউজ