নানা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন জি এম কাদের
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটির ওপর
ভিত্তি করে একটা ইঙ্গিত মিলবে জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের ব্যাপারে
সরকারের অবস্থানটা কী। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জি এম
কাদেরকে উপনেতার পদ থেকে সরানো, কাজী ফিরোজ রশীদকে স্থলাভিষিক্ত
করাসহ নানা গুঞ্জন নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কাজী ফিরোজ রশীদকে উপনেতা করার বিষয়ে জানতে চাইলে রওশন
এরশাদ গতকাল শুক্রবার বিকেলে ব্যাংকক থেকে মুঠোফোনে বলেন, ‘চিঠি
গেছে তো।’ কবে গেছে জানতে চাইলে মুঠোফোনের পাশ থেকে কেউ
একজনকে কথা বলতে শোনা যায়। এরপর রওশন এরশাদ বলেন, ‘চিঠি
দিইনি। দেব কেন এখন? দেওয়ার তো কথা নয়।’
প্রায় ১০ মাস ধরে রওশন এরশাদ ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছেলে সাদ
এরশাদ ও ছেলের বউ রয়েছেন।
অবশ্য জি এম কাদের জানান, কাউকে উপনেতা করা হচ্ছে—এ ধরনের তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে চিঠি
দেওয়ার অথোরিটি ওনার (রওশন এরশাদ) নেই।
জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই হঠাৎ রওশন এরশাদের সম্মেলন আহ্বান এবং এর আগে
পরপর সংঘটিত তিনটি ঘটনা নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংশয়-সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। গত আগস্ট মাসেই জি এম
কাদের জীবননাশের আশঙ্কাসংবলিত বার্তা পান। এরপর সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর আহত হওয়া, হঠাৎ রওশন
এরশাদের সম্মেলন ডাকার পরদিনই তাঁর মুঠোফোন ছিনতাই হয়। পরপর সংঘটিত ঘটনাগুলো কাকতাল, নাকি
এর সঙ্গে অন্য কিছুর যোগসূত্র আছে, তা নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা আছে; যদিও ছিনতাইয়ের ৯ দিন পর কয়েক
হাত বদল হওয়া জি এম কাদেরের মুঠোফোনটি গত বৃহস্পতিবার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জাপার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট জি এম কাদেরকে তাঁর মুঠোফোনে জীবননাশের
হুমকিসংবলিত একাধিক বার্তা পাঠান কাজী মামুনুর রশীদ নামের এক ব্যক্তি। এর মধ্যে কাজী মামুনুর রশীদের
ব্যবহার করা মুঠোফোন থেকে জি এম কাদেরকে বরইগাছের পাতার ছবি পাঠানো হয়। এরপর তিনি কবরের
ছবি পাঠান। এ ঘটনার পর ৭ আগস্ট জি এম কাদেরের জীবননাশের হুমকির কথা জানিয়ে উত্তরা পশ্চিম
থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিরোধীদলীয় উপনেতার সহকারী একান্ত সচিব মো. আবু তৈয়ব।
জি এম কাদেরকে কবরের ছবি পাঠানোর কথা স্বীকার করেন কাজী মামুনুর রশীদ। তিনি প্রথম আলোকে
বলেন, ‘আমাকে একজন এইটা (কবরের ছবি) পাঠাইছে, আমি আবার এইডা উনারে না শুধু, এক থেকে দেড়শ
লোককে ফরওয়ার্ড করেছি। এইটার উদ্দেশ্য হইল আমরা প্রত্যেকে যেন কবরের চিন্তাটা করি আরকি। কারণ,
আমাদের তো শেষ ঠিকানা কবর।’
জীবননাশের আশঙ্কাসংবলিত বার্তা পাওয়া এবং এ বিষয়ে থানায় জিডি করার এক সপ্তাহের মাথায় বিমানবন্দর
সড়কের খিলক্ষেত এলাকায় তাঁর গাড়িকে পাশ থেকে চাপা দেয় দ্রুতগামী একটি পরিবহন। এতে জি এম কাদের
বুকে আঘাত পান। তাঁকে বহনকারী গাড়ির দুটি দরজাই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ১৮ দিনের মাথায় ৩০
আগস্ট হঠাৎ জাপার সম্মেলন আহ্বান করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠান রওশন এরশাদ। পরদিনই বিমানবন্দর
সড়কে জি এম কাদেরের হাত থেকে তাঁর মুঠোফোন ছিনতাই হয়।
