১০ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

রাজশাহীতে ভোজ্যতেলের মজুদ পর্যাপ্ত : জেলা প্রশাসক

প্রকাশিত: ৮ March ২০২২, ১:৩৫ pm | বিভাগ: অর্থনীতি, রাজশাহী প্রতিদিন, শীর্ষ সংবাদ
রাজশাহীতে ভোজ্যতেলের মজুদ পর্যাপ্ত : জেলা প্রশাসক
বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর বাজারে ভোজ্যতেল নিয়ে তেলেসমাতি কারবার চলছে। তেলের বাজার অস্থিতিশীল করতে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী উঠেপড়ে লেগেছে। তারা সয়াবিন তেল গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। জেলা প্রশাসন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা বলা হচ্ছে- আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। রাজশাহীতে ভোজ্য তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেছেন, বাজারে ভোজ্যতেলের কোনো ঘাটতি নেই। গত এক সপ্তাহ থেকে তেলের দাম অনেক বেশি। পণ্যের সাপ্লাই ও ডিমান্ডের উপর বাজারের দাম নির্ধারণ করে থাকে। ডিলারদের কারসাজিতে বাজারে সয়াবিন তেলের ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়বে- এই আশায় মজুদ করে রাখছেন অনেক ব্যবসায়ী, আর মজুদ করে রাখা ঠেকাতে গত কয়েকদিন ধরেই মহানগরীসহ রাজশাহী জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে রাজশাহী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। রোববার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে। জনাব আব্দুল জলিল ভোক্তাদের আশ্বস্ত করছেন যে, রাজশাহীতে আগামী তিন মাসের ভোজ্যতেলের মজুদ রয়েছে।

সোমবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্যতেলের ‘কৃত্রিম সংকট’ নিরসনে করণীয় বিষয়ক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ভোজ্যতেলের কোনো ঘাটতি না থাকলেও তেলের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, সয়াবিন মিলার, আমদানিকারক কোম্পানি এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা মিলে তেল মজুদ করে রাখার কারণেই মূলত খুচরা পর্যায়ে তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। অধিক মুনাফার আশায় অনেক ব্যবসায়ী তেল বাজারে ছাড়ছেন না। ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল রোববার) নগরীর হাদির মোড়ের ‘শাহাবুদ্দিন স্টোর’ নামের এক দোকান মালিক জুয়েলের বাড়ি থেকে ৮০০ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল আরও বলেন, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকার সারাদেশে ১ কোটি মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে তেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রি করবে। সেই লক্ষে রাজশাহীতে মোট ২ লাখ পরিবারকে ইতোমধ্যে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসক তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন জানান, একটি অসাধু চক্র এমন কাজ করছে। জেলা প্রশাসকসহ আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, আমরা একটা পরিবার নিয়ে কাজ করি। রাজশাহীর মানুষ শান্তিপ্রিয়। তাই তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনকে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে হবে। সেই লক্ষে ব্যবসায়ীদের গোডাউনে মজুদের ডিকলারেশন জেলা প্রশাসনকে দিতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি। রাজশাহীতে কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, আমার জানা মতে নেই।

রাজশাহী বেনেতি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সেকেন্দার আলী বলেন, রাজশাহীতে প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে থাকে। তাই এর আগে লবণের মূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের সাথে তাঁরা কাজ করেছে। বাজার খুবই সেনসেটিভ জায়গা। তাই আমাদের ব্যবসায়িদের সচেতন থাকতে হবে। ভোক্তা অধিদফতর বাজারে অ্যাক্টিভ আছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে মানবিক হতে হবে, সেই ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল মহোদয় অনেক মানবিক মানুষ।

বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা প্রশাসনের আলোচনা করার জন্য সুপারিশ করেন তিনি। তার এলাকার কোনো দোকানি এ মাসে নতুন তেল আনতে পারেননি। গত মাসে আনা তেল, বিশেষ করে এক লিটার এবং তিন লিটারের বোতল বেঁচতে হচ্ছে তাদের।

সপ্তাহখানেক যাবত পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না এমন অভিযোগ করে রাজশাহী পরিবেশক সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান বলেন, যারা বিদেশ থেকে তেল আমদানি করেন তারাই সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করেন।
ডিলারদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মার্চ মাসের প্রথমদিন থেকেই ডিলারদের কাছ থেকে তারা তেল পাচ্ছেন না। নগরীর সাহেববাজারের একজন খুচরা বিক্রেতা বলছিলেন, আবার কখনো পেলেও ডিলাররা বাড়তি দাম চাইছে তাদের কাছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু, পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, রাজশাহী বেনেতি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সেকেন্দার আলী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রাজশাহী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ আলী, টিসিবির অফিস প্রধান শাহিদুল ইসলাম, কৃষি বিপণন অধিদফতরের জেলা বাজার কর্মকর্তা মো. মনোয়ারা হোসেন, রাজশাহী সিটি গ্রুপের পরিবেশক নূর মোহাম্মদ, রাজশাহী পরিবেশক সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান প্রমুখ।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন