১০ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

চিরচেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: ১৬ March ২০২২, ২:০৯ pm | বিভাগ: রাজশাহী প্রতিদিন, শিক্ষা, শীর্ষ সংবাদ
চিরচেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরোদমে ক্লাস শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সর্বশেষ প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাসে উপস্থিতির মধ্যেদিয়ে আর বাকি থাকলো না কোনো শ্রেণি। তবে করোনার দীর্ঘ ছুটির পরে, দেরিতে হলেও সবশ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন ক্লাসে বসতে পারছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন মুখরিত।

রাজশাহী শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুল আসছে। আর মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮৫ শতাংশ। তবে এখনও যারা ক্লাসমুখি হয়নি; তাদের নিয়ে আসতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিন নগরীর অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়, রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। ক্লাসের শিক্ষকরা বলছেন, আস্তে আস্তে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে ক্লাসে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক সময়ের মতো নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে।

রাজশাহী প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে, মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) প্রাক্-প্রাথমিকে প্রথম দিনে উপস্থিতির হার ছিল ৭৬ শতাংশ। অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক ক্লাস হওয়ার খবর জানেন না। তাদের জানানো হচ্ছে- পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরো বাড়বে।

সকালে রাজশাহী নগরীর অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের সামনে দেখা গেছে, অভিভাবকদের হাত ধরে সড়ক পার হয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। তাদের একজন জয়া। ভর্তির পরে দুই বছর পর স্কুলে এসেছে সে। জয়া জানায়, ‘স্কুলে এসে অনেক ভালো লাগছে। এখন অনেক কিছু শিখতে পারবো।’

ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানায়, ‘স্কুলে আসার জন্য খুব সকালেই সে (সন্তান) ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুতি নেয়। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ব্যাগ নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাইরে চলে আসে। আমার মেয়ের ক্লাসে বসে পড়া-শোনা করার খুব ইচ্ছে। সে বলে, বাড়িতে একা একা পড়তে ভালো লাগে না।’

করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের তখনো বিদ্যালয়ে না আনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার, যা ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিল। এর মধ্যে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২২ ফেব্রুয়ারি খুলে দেওয়া হয়। এরপর ২ মার্চ প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়। এখন প্রাক্-প্রাথমিকও খুলে দেওয়া হলো।

অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ সাইফুল হক জানান, ‘সব ক্লাস আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। শুধু প্রাক্-প্রাথমিক বাকি ছিল। এই ক্লাসও শুরু হয়েছে। তারা অনেক খুশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। প্রথম দিন তাই কম শিক্ষার্থী এসেছে। বুধবার (১৬ মার্চ) ৭০ শতাংশ বেশি শিক্ষার্থী আসবে বলে মনে করি।’

মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী নাহিদ জানান, ‘আমাদের ক্লাস ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। দীর্ঘদিন পরে ক্লাস ও পড়াশোনা করতে ভালোই লাগছে।’

রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, ‘প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস আগেই শুরু হয়। বাকি ছিল প্রাক্-প্রাথমিক। প্রাক্-প্রাথমিকে এই স্কুলে ৪২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১২ জন উপস্থিত ছিল প্রথমে। পরে আরো চার থেকে পাঁচজন আসে। সবমিলে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিছু কিছু মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদের দিয়ে তাদের বলে পাঠানো হয়েছে ক্লাসের বিষয়ে। আগামি দিনে শিক্ষার্থী আরো বাড়বে।’

এই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে এসে অনেক ভালো লাগছে। স্যারদের সাথে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। এখন থেকে আমরা ক্লাসে বসে পড়া-শোনা করতে পারবো।

হাবিব নামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানায়, ‘সন্তানকে বাড়িতে অমনোযোগী মনে হয়। কিন্তু স্কুলে আসার অগ্রহ বেশি। পাশের বাড়িতে এক সঙ্গে অনেক জন পড়ে, তাদের সাথে বসে পড়ার চেষ্টা করে। সে মনে করে এই প্রাইভেট তার স্কুল। কিন্তু স্কুলে এসে বার বার জিজ্ঞাসা করে- বাবা এটা স্কুল? আমি এখানে বই পড়বো।’

রাজশাহী জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, ‘দীর্ঘদিন পরে প্রাক্-প্রাথমিকের ক্লাস শুরু হলো। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৭৬ শতাংশ। প্রথম দিন হিসেবে উপস্থিতি সন্তোষজনক বলা চলে। এখনও যারা ক্লাসে উপস্থিত হয়নি তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরো বাড়বে। তিনি আরো বলেন, ‘স্কুল খোলার পরে প্রাথমিকের শিক্ষার্থী কম থাকলেও পর্যায়ক্রমে বেড়েছে। বর্তমানে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত হয়।’

রাজশাহী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, ‘উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশের উপরে। শিক্ষার্থীদের করোনার টিকার আওতায় আনা হয়েছে। যারা এখনও স্কুলে আসছে না, তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন