১০ October ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Greencity24

স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ পেয়ে ফিরে গেল শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ১৮ July ২০২২, ১:০০ pm | বিভাগ: রাজশাহী, শিক্ষা, শীর্ষ সংবাদ, সব খবর
স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ পেয়ে ফিরে গেল শিক্ষার্থীরা
বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে স্কুলের গেট বন্ধ করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ইদের ছুটিতে সাবেক সভাপতি জয়নাল হোসেন এমন কাজ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানায়। রোববার (১৭ জুলাই) স্কুলের ভেতরে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে না পাড়ায় ক্লাস বন্ধ ছিল। ফলে স্কুলের ১৩৯ জন শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে গেছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী পবার ভুগরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এসময় পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার স্কুলটিতে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন।

তিনি জানান, আমরা শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া যারা প্রাচীর দিয়েছে তাদের সাথে কথা বলবো। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আশার রাস্তার ব্যবস্থা করা হবে।

জানা গেছে- স্কুলের সাবেক সভাপতি জয়নাল হোসেন নওহাটা পৌরসভা যুুবলীগের আহ্বায়ক। এছাড়া স্কুলের সামনে ও আশে-পাশে জায়নাল ও পলাশের জমি রয়েছে। তবে স্কুল গেট বরাবর জয়নালের জমি বলে জানা গেছে। আর পাশে পশালের জমি। স্কুল ইদের ছুটি ছিল। এই সুযোগে জয়নাল প্রাচীর দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুলটির প্রধান গেট বরাবর পাঁচ ইঞ্চি ইট দিয়ে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই স্কুলটির রাস্তা ঘিরে বাঁশের বাতার (চেগার) দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। স্কুলটির সামনের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে বেশ কিছুদিন আগে কলা বাগান করা হয়েছে। এর সর্বশেষ প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।

স্কুলটির শিক্ষার্থী নিশাদ ও রাশিদ জানায়, ‘আমাদের স্কুলের গেটের সামনে প্রাচীর দেওয়া দেওয়া হয়েছে। আমরা স্কুলে ঢুকতে পারছি না। তাই স্কুল বন্ধ, ক্লাসও হয়নি। আমাদের খেলার মাঠে কলা বাগান করা হয়েছে। এতে করে আমরা খেলা-ধূলা করতে পারছি না।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুন নেশা জানায়, তার স্কুলে ১৩৯ জন শিক্ষার্থী পড়া-শোনা করে। এর মধ্যে প্রাক প্রাথমিকের ৯ জন, প্রথম শ্রেণির ২৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ২৪ জন, তৃতীয় শ্রেণির ২৪ জন, চতুর্থ শ্রেণির ৩০ জন ও পঞ্চম শ্রেণির ২৭ জন শিক্ষার্থী পড়া-শোনা করছে। প্রাচীর দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ইদের ছুটিতে স্কুল বন্ধ ছিল। এই সুযোগে কেউ প্রাচীর দিয়েছে।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আয়ুব আলী জানান, আনোয়ারা বেগমের থেকে ১৯৯০ সালে আমিসহ আরো চারজন শিক্ষক ৮০ হাজার টাকায় দুই দাগের ১৮ ও ১৫ মিলে ৩৩ শতক জমি কিনে নেয়। এর পরে সেখানে স্কুল তৈরি করি। পরবর্তিতে সময়ে স্কুলটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতায় চলে যায়। এর পরে তারা স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শার্তে এক সূত্র জানায়- স্কুলের যে জমি সেটি জয়নাল ও পশালের দখলে। তবে পলাশের মায়ের থেকে জমিটি স্কুল কর্তৃপক্ষ কেনে। তবে পরবর্তিতে স্কুল পাশে অন্যের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। স্কুলের জমি কাগজে কলমে রাস্তার পাশে। কিন্তু স্কুল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তা থেকে অনেক দূরে। যেখানে স্কুলটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি স্কুলের জায়গা নয়। একই দাগের অন্য অংশের জমি।

বিষয়টি নিয়ে জয়নালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই জমি তার না। জমি পশালের।’
বিষয়টি নিয়ে পশাল জানায়, ‘আমার জমি আছে, তবে স্কুলের সামনে না সাইডে (পাশ)। আমের বাগান। স্কুলের গেট বরাবর জয়নালের জমি। আর আমি প্রাচীর দেয়নি।’

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির পবা উপজেলার সভাপতি হারুন-অর-রশিদ বলেন, স্কুলের গেটে প্রাচীর দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি খুবই দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক।

রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুস সালাম জানান, স্কুলের সামনের জায়গা স্থানীয় এক নেতার। সে প্রাচীর দিয়েছে। তাকে বাঁধা দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি। তার পরেও তিনি প্রাচীর দিয়েছেন। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি আমাকে জানায়। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানায়। অতিদ্রুত একটা সমাধান হবে।

সন্ধ্যায় পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার জানায়, দুপুরের দিকে সবার সাথে বসা হয়েছিল। তাতে সিদ্ধান্ত হয় পলাশ বাঁশের বেড়া খুলে নেবে। আর জয়নাল প্রাচীর ভেঙ্গে নেবে সকালের মধ্যে। স্কুল শিক্ষার্থীদের যাওয়া-আশায় কোন ধরনের সমস্যা হবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন